ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ দিন

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ

সরকারি ভূমি উদ্ধার করলে পুরস্কার

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ঢাকায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে চলমান জেলা প্রশাসক সম্মেলনের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেন— পিআইডি

স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, 'গ্রামকে শহর বানানোর' অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অঙ্গীকার অনুযায়ী অনেক প্রকল্প ও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প ও কর্মসূচি স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ দিন বুধবার ডিসিদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

একই দিনে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ের বেশিরভাগ দায়িত্ব ডিসিরা পালন করেন। তাই মাঠ পর্যায়ের সব কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। এ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করা, গ্রাম আদালত বাস্তবায়ন ও সরকারি বরাদ্দ সঠিকভাবে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। রেজিস্টার্ড ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয়কে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রথমবারের মতো আগামী ২৫ থেকে ৩১ জুলাই দেশব্যাপী মশানিধন কর্মসূচি পালন করবে। এই কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য ডিসিদের বলা হয়েছে।

ওষুধে মশা মরে না— এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মশা মারার ওষুধ ছিটাতে গিয়ে যদি সেই ওষুধে মানুষ ও গাছগাছালির ক্ষতি হয়, তবে তেমন ওষুধ ছিটানো যাবে না। যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত।

কৃষকদের থেকে ধান কেনার নির্দেশ: বোরো উৎপাদনে সরকার কৃষকদের সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবে কৃষক যাতে বোরো উৎপাদনে নিরুৎসাহিত না হন, সে জন্য আগামীতে মিলার ও কৃষকদের কাছ থেকে সমপরিমাণ ধান কেনা হবে। মিলাররা ধান ছাঁটাই করে চাল সরকারি গুদামে দেবে। এর জন্য যে বাড়তি খরচ হয়, সেটা সরকার দেবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষিকাজের আধুনিকায়ন ও কৃষি সরঞ্জাম কেনার জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ভেজাল খাদ্য ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ডিসিদের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছি। এ বিষয়ে তারা সক্রিয় থেকে দায়িত্ব পালনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা ও উপজেলার ক্লিনিকগুলোতে যাতে অতিরিক্ত ফি আদায় করা না হয়, সে বিষয়ে মনিটরিং বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। হৃদরোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ জন্য জেলা পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত ইউনিট খোলার কথাও বলেন তিনি।

সরকারি ভূমি উদ্ধার করলে পুরস্কার: ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, 'সরকারি ভূমি উদ্ধারের লক্ষ্যে ডিসিদের পরামর্শ চেয়েছি এবং এ জন্য কাজ করতে বলেছি। ভূমি উদ্ধারকারীদের পুরস্কৃত করা হবে।' অধিবেশনে মন্ত্রী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাজে জেলা প্রশাসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের নির্দেশ: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, 'সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছি।'

তিনি বলেন, 'সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা এলে জানাতে বলেছি। সাধ্য অনুযায়ী সেসব বাধা দূর করার আশ্বাসও দিয়েছি। সন্ত্রাস, মাদক ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছি।'

চাহিদার চেয়ে কোরবানির পশু ১০ লাখ বেশি আছে: কোরবানির চাহিদা মেটাতে দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু আছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। তিনি বলেন, আগামী কোরবানির জন্য দেশে এক কোটি ১৮ লাখ পশু প্রস্তুত আছে। প্রয়োজন এক কোটি সাত লাখ পশু। কাজেই কোরবানির পশু নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই।

দৃশ্যমান যৌন হয়রানি বন্ধে কঠোর নির্দেশ: মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, 'যৌন হয়রানিসহ সমাজের দৃশ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে ডিসিদের কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। এ বিষয়ে ডিসিদের মনিটরিং ও কো-অপারেশন বাড়ানোরও নির্দেশনা দিয়েছি।' নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো তাকেও উদ্বিগ্ন করে। কারণ, তিনিও তো নারী।

বিষয় : ডিসি সম্মেলন প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকারি ভূমি ভূমি দখল ভূমি উদ্ধার