১০ বছরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ২৯৪ নিহত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

আসাদুজ্জামান খান- ফাইল ছবি

গত ১০ বছরে (২০০৯-২০১৮) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ২৯৪ জন নিহত হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তবে আগের তুলনায় সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা অনেকটা কমে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। বৃহস্পতিবার বিএনপির হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

এর আগে বিকেল ৫টায় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, সীমান্তে ২০০৯ সালে ৬৬, ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ সালে ২৪, ২০১২ সালে ২৪, ২০১৩ সালে ১৮, ২০১৪ সালে ২৪, ২০১৫ সালে ৩৮, ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ ও ২০১৮ সালে তিনজনকে বিএসএফ হত্যা করেছে।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে হত্যা করা হয়েছিল ৬৬ জন। ২০১৮ সালে তা কমে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধের বিষয়ে বিজিবি সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এবং সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। সীমান্ত হত্যাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ একমত পোষণ করে আসছে বলেও তিনি জানান।

নেত্রকোনা-৩ আসনের অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সমন্বিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। ১২৮টি বর্ডার সেন্ট্রি পোস্ট (বিএসপি) নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসএফ সীমান্তের ৩১৮ কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে আধুনিক ক্যামেরাসহ নজরদারির ব্যবস্থা করছে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সুন্দরবন এলাকায় ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩২টি বাহিনীর প্রধানসহ ৩২৮ জলদস্যু/বনদস্যু ৪৬২টি অস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪টি গোলাবারুদ ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

ফেনী-২ আসনের নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০০৬ সাল থেকে জুন-২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন অবস্থায় এক হাজার ৫০ পুলিশ নিহত ও চার হাজার ৪৪০ জন আহত হয়েছেন।

বিএনপির হারুনুর রশীদের অপর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব সংস্থা ২০১৮ সালে এক লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি মামলা দায়ের করে আইনের আওতায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।