ডেঙ্গু

সাড়ে ৭ মাসেই ভাঙল ১৯ বছরের রেকর্ড

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

সরকারি পরিসংখ্যান মতে বিগত ১৯ বছরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৫০ হাজার ১৭৬ জন। অথচ চলতি বছরে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ১৯ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে মাত্র সাড়ে সাত মাসে। চলতি আগস্ট মাসের ১৭ দিনেই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার রোগী।

সরকারি পরিসংখ্যান মতে বিগত ১৯ বছরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৫০ হাজার ১৭৬ জন। অথচ চলতি বছরে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ ১৯ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে মাত্র সাড়ে সাত মাসে। চলতি আগস্ট মাসের ১৭ দিনেই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার রোগী। আগামী দুই মাস ডেঙ্গুর ভরা মৌসুমে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। গতকাল শনিবার ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেসরকারি হিসাবে দাঁড়াল ১৩৬ জনে। সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা অবশ্য মাত্র ৪০।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে ২০০০ সালে প্রথমবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়। ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন আক্রান্ত এবং ৯৩ জনের মৃত্যু হয়। তখন ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল এ রোগটি। এরপর প্রতিবছরই কমবেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও এবারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনও হয়নি। ঢাকাকেন্দ্রিক এ রোগটি এবার বিভাগ, জেলা, উপজেলা হয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

২০০০ সালে প্রথম ডেঙ্গুর প্রকোপের পর সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। এর ফলে পরের বছর ২০০১ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে ২ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়ায়। মৃত্যু হয় ৪৪ জনের। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০০২ সালে ৬ হাজার ২৩২ জন আক্রান্ত ও ৫৮ জনের মৃত্যু, ২০০৩ সালে ৪৮৬ জন আক্রান্ত ও ১০ জনের মৃত্যু, ২০০৪ সালে ৩ হাজার ৪৩৪ জন আক্রান্ত ও ১৩ জনের মৃত্যু, ২০০৫ সালে ১ হাজার ৪৮ জন আক্রান্ত ও ৪ জনের মৃত্যু, ২০০৬ সালে ২ হাজার ২০০ জন আক্রান্ত ও ১১ জনের মৃত্যু হয়।

এরপর ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এবং ২০১৪ সালে যথাক্রমে ৪৬৬, ১ হাজার ১৫৩, ৪৭৪, ৪০৯ এবং ৩৭৫ জন আক্রান্ত হন। এই পাঁচ বছরে একজনেরও মৃত্যু হয়নি। তবে ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ১ হাজার ৩৫৯ আক্রান্ত ও ৬ জনেরমৃত্যু, ৬৭১ জন আক্রান্ত ও ১ জনের মৃত্যু, ১ হাজার  ৭৪৯ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু, ৩ হাজার ১৬২ জন আক্রান্ত ও ৬ জনের মৃত্যু, ৬ হাজার ৬০ জন আক্রান্ত ও ১৪ জনের মৃত্যু, ২ হাজার ৭৬৯ জন আক্রান্ত ও ৮ জনের মৃত্যু এবং ১০ হাজার ১৪৮ জন আক্রান্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এ হিসেবে গত ১৯ বছরে ৫০ হাজার ১৭৬ জন আক্রান্ত এবং ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়। কিন্তু চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫১ হাজার ৪৭৬ জন।

বিভিন্ন রোগের ধরন নিয়ে গবেষণা করা এবং এসব রোগে প্রকোপ মোকাবেলায় কাজ করছে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ এক যুগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান। তিনি সমকালকে বলেন, ডেঙ্গু রোগটি সম্পর্কে সর্বপ্রথম ২০০০ সালে ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। তখন আসলে চিকিৎসকরাও বুঝতে পারতেন না কীভাবে এর চিকিৎসা দিতে হবে। তখন এটিকে 'ঢাকা ফিভার' হিসেবে বলা হতো। কিন্তু ব্যবস্থাপনার উন্নতি হওয়ার পর গাইডলাইন তৈরি করা হয়। এরপর চিকিৎসকরা সে অনুযায়ী চিকিৎসাও দিয়েছেন। এরপরই কিন্তু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে এসেছিল। এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে এই রোগতত্ত্ববিদ বলেন, এই ডেঙ্গু তো একদিনে হয়নি। অন্য জেলায় যে ডেঙ্গু আছে, তা আগের বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে। আইইডিসিআরের পরিচালক থাকাকালে এ-সংক্রান্ত ভাইরোলজিক্যাল জরিপ করেছিলাম। তখন গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। সুতরাং এটি বলা যাবে না, যে ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে গ্রামে গিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু আগেই ছিল, এখন হয়তো গ্রামে কিছুটা বেড়েছে। আবার ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে গিয়েও কেউ কেউ আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গুর এই বিস্তার একদিনে হয়নি। ধাপে ধাপে বিস্তার ঘটিয়ে এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এবার ডেঙ্গুর ধরন পাল্টেছে উল্লেখ করে ডা. মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, এ বিষয়ে গবেষণা করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে এটি রেকর্ড করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন। যাতে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে। তাহলে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কম হবে। এ বছর কোনোভাবে পরিস্থিতি উতরে গেলেও ভবিষ্যতের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, জিকাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। জিকা ইতিমধ্যে ভারতে এসে গেছে। আমাদের দেশেও এর প্রভাব পড়বে। সব মশাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি আছে। সেসব পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, 'কয়েকদিন ধরে গ্রামে একটু বাড়লেও ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।'

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সারাদেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে এক হাজার ৪৬০ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৬২১ জন এবং বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ৮৩৯ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ৫১ হাজার ৪৭৬ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৫৮০ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এখন সাত হাজার ৮৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। রাজধানীর ৪১ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চার হাজার ৪৩ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে তিন হাজার ৮১৩ জন ভর্তি আছেন।

রাজধানীর ঢাকা শিশু হাসপাতালে শুক্রবার মধ্যরাতে আয়াজুর রহমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় তার বাসা। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মনোয়ারা বেগম নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার চমকপুর গ্রামে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সুমন বাসার রাজু নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার চাঁদপুর গ্রামে। রাজু মাগুরা সত্যজিৎ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা মিজানুর রহমান জানান, ৭ আগস্ট রাজুর জ্বর হলে তাকে মাগুরা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১২ আগস্ট ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইউনুস শেখ নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইউনুস (৫৫) গত ১২ আগস্ট এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সিরাজগঞ্জে মেহেদী হাসান নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল কোরব আলী সরকারি কলেজের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ আগস্ট তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

ঢাকা বিভাগ : ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলায় ৮৬ জন, গাজীপুরে ৪৩, মুন্সীগঞ্জে ২৯, কিশোরগঞ্জে ১৩১, নারায়ণগঞ্জে ৩৫, গোপালগঞ্জে ৩৪, মাদারীপুরে ৬৪, মানিকগঞ্জে ১২৭, নরসিংদীতে ৬২, রাজবাড়ীতে ৩৮, শরীয়তপুরে ৬০, টাঙ্গাইলে ৮১, ফরিদপুরে ৪১ জনসহ মোট ৮৩১ রোগী ভর্তি আছেন। এ বিভাগে চার হাজার ৯২৯ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চার হাজার ৯৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগ : চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ১৮২ জন, ফেনীতে ৯৫, কুমিল্লায় ১৪২, চাঁদপুরে ১২০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৭, নোয়াখালীতে ৭৩, কক্সবাজারে ৪০, লক্ষ্মীপুরে ৫২, খাগড়াছড়িতে ২০, রাঙামাটিতে ৬ এবং বান্দরবানে ২ জনসহ মোট ৭৮৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বিভাগে মোট তিন হাজার ৭৯৩ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন হাজার ৪ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

খুলনা বিভাগ : খুলনা জেলায় ২১১ জন, কুষ্টিয়ায় ৬০, মাগুরায় ২৬, নড়াইলে ৪৫, যশোরে ১৭৬, ঝিনাইদহে ৩৪, বাগেরহাটে ১২, সাতক্ষীরায় ৪৪, চুয়াডাঙ্গায় ১০, মেহেরপুরে ১৯ জনসহ মোট ৬৩৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে দুই হাজার ৮১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে দুই হাজার ১৮১ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

রাজশাহী বিভাগ : রাজশাহী জেলায় ৬৫, বগুড়া ১৪২, পাবনায় ৬৬, সিরাজগঞ্জে ৭০, নওগাঁয় ১৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭, নাটোরে ১৬ ও জয়পুরহাটে ৪ জনসহ মোট ৪১৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে দুই হাজার ২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৭৮৪ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

রংপুর বিভাগ : রংপুর জেলায় ১৩০ জন, লালমনিরহাটে ৯, কুড়িগ্রামে ২০, গাইবান্ধায় ১১, নীলফামারীতে ১৩, দিনাজপুরে ৬২, পঞ্চগড়ে ৪ ও ঠাকুরগাঁওয়ে ২৫ জনসহ মোট ২৭৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে এক হাজার ২৯৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ২০ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

বরিশাল বিভাগ : বরিশাল জেলায় ৩৬৬ জন, পটুয়াখালীতে ৬৫, ভোলায় ৩৫, পিরোজপুরে ৫২, ঝালকাঠিতে ১১, বরগুনায় ৩০ জনসহ মোট ৫২৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে দুই হাজার ৪২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৮৯৮ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

সিলেট বিভাগ : সিলেট জেলায় ৫৬ জন, সুনামগঞ্জে ২, হবিগঞ্জে ৭, মৌলভীবাজারে ১৫ জনসহ মোট ৮০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ বিভাগে ৫৮৫ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪০৫ জন ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ২১৭ জন, জামালপুরে ৫০, শেরপুরে ২৫, নেত্রকোনায় ৪ জনসহ মোট ২৮৪ রোগী ভর্তি আছেন। এ বিভাগে এক হাজার ৩৯৬ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ১০০ জন ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।