ব্যাখা দিতে হাইকোর্টে ভোলার এসপি

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি বিচারকের বরাবর প্রতিবেদন পাঠানোর কারণে ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মো. কায়সারকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে তিনি আদালতে হাজির হয়েছেন ব্যাখা দেওয়ার জন্য। 

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তিনি ব্যাখা দেবেন। 

গত ৩ জুলাই তেজগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস জীবিত না মৃত, সে বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারকে প্রতিবেদন আকারে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলহাস ওরফে জুয়েল গত ১০/১২ বছর আগে পরিবার নিয়ে ভোলায় চলে গেছেন। 

অন্যদিকে, ভোলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন বিচারপতির বরাবরে সরাসরি খামে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোলায় জুলহাস নামে কোনও ব্যক্তি নেই, তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ভোলা সদর এলাকায় পশ্চিম বাপতা নামে কোন গ্রামও নেই।

এরপর মামলার বাদি অশীতিপর রাবেয়া খাতুনের আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল একটি মামলার এজাহার ও চার্জশিট দাখিল করে আদালতকে বলেন, ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর ফার্মগেটের পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় জুলহাসকে দুস্কৃতিকারীরা গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার মা নূরজাহান বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাকির হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। বর্তমানে এ মামলটি ঢাকার আদালতে বিচারাধীন। 

এ পর্যায়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তাহলে পুলিশ কী প্রতিবেদন পাঠালো। এসব প্রতিবেদন পরস্পর বিরোধী। এখানে পুলিশের গাফলতি রয়েছে। আদালত আরও বলেন, ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) যেভাবে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন, সেখানে কোন অফিসিয়াল ডেকোরাম অনুসরণ করা হয়নি। সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে না পাঠিয়ে খামের ওপর আমাদের (বিচারপতি) ভুলভাবে ঠিকানা লিখে সরাসরি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এখানে কোন পদ্ধতি অনুসরন করা হয়নি। এটা কী সঠিক হয়েছে-প্রশ্ন রাখেন আদালত। 

ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারকের পক্ষে আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন সমকালকে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও বিচার কাজ অব্যাহত রাখার অভিযোগে তলব করা ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আল মামুন নি:শর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এর আগে ওই আদালতের এপিপি শাহাবুদ্দিন মিয়া নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ দুটি বিষয় আদালতের রেকর্ডে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএমপি কমিশনারের আইন শাখাকে আসামি জুলহাসের বিষয়ে সঠিকভাবে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত। আগামী ২০ আগষ্ট এসব বিষয় নিস্পত্তি হবে।

অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে অশীতিপর রাবেয়া খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ২০০২ সালের ২ জুন। মামলা নম্বর ১৯৩৮/০২। এরপর তিনি গ্রেফতার হন, ছয় মাস কারাগারে থেকে জামিনও পান। পরে তাকেসহ দুই আসামি জুলহাস ও মাসুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ শুরু হয় মামলার বিচার। কিন্তু গত ১৪ বছর আদালতে জুলহাসের কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। জুলহাস জীবিত না মৃত এ বিষয়ে কোন প্রতিবেদন না থাকায় হাইকোর্ট ডিএমপি কমিশনারকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেন দাখিল করার নির্দেশ দেন।

রাজধানী তেজগাঁও থানা এলাকার ৩/ক গার্ডেন রোড, কাজী আবদুল জাহিদের ঘরের দক্ষিণ পাশ থেকে গ্রেফতার করা হয় রাবেয়া খাতুনকে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। সেই মামলা থেকে মুক্তি পেতে ঢাকার আদালতের বারান্দায় ১৮ বছর ধরে ঘুরছেন এই অশীতিপর মানুষটি।