তাদের দুঃসহ দিনরাত্রি

বাবার রক্তমাখা একখানা ছবিই শুধু পেয়েছি

মুন সর্দার, নিহত নাসিরউদ্দিন সর্দারের ছেলে

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

-

মায়ের কাছে অনেকবার জানতে চেয়েছি- বাবার আর কোনো ছবি নাই? প্রতিবারই মা আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদেন আর বলেন, এই রক্তমাখা ছবিই তোর বাবার একমাত্র স্মৃতি। বাবার রক্তমাখা একখান ছবিই শুধু পেয়েছি, আর কিছু নাই। সেই রক্তমাখা ছবি দেখেই ছোট থেকে বড় হয়েছি। থাকবেই-বা কীভাবে, আমার বয়স যখন মাত্র পাঁচ মাস, তখন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বাবা শ্রমিক লীগ নেতা নাসির উদ্দিন সর্দার নিহত হন। মা মর্জিনা বেগম আর বড় ভাই মাহাবুব সর্দার ছাড়া আমাদের পরিবারে আর কেউ নাই। এখনও 'বাবা' কথাটি শুনলে বুকটা কেঁপে ওঠে। একবারও বাবা বলে ডাকার স্বাদটা পাই না। ছোটবেলায় যখন স্কুলের অন্য ছেলেমেয়েরা বাবাদের কোলে উঠে বাড়ি ফিরত, আমি তখন এতিমের মতো একা একা বাড়ি ফিরতাম। মায়ের আদর আর বড় ভাইয়ের ভালোবাসা ছাড়া বাবার সোহাগ পাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি।

বাবা না থাকার কারণে দেরি করে আমাকে স্কুলে ভর্তি হতে হয়। আমি এখন মাদারীপুরের কালকিনির কয়ারিয়া ইউনিয়নের ৭৭ নম্বর চরকয়ারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। বড় ভাই মাহাবুব সর্দার বেকার, বিভিন্ন জায়গায় চাকরির চেষ্টা করছেন। আমাদের কৃষি জমি থেকে যে ফসল পায়, তা দিয়েই মা কোনোমতে টেনেটুনে সংসার চালাচ্ছেন। মা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এখন যদি বড় ভাইয়ের চাকরিটা হয়ে যায়, তাহলে সংসারে অভাব থাকবে না। বড় ভাই বলেছেন, আমাকে উচ্চশিক্ষিত করাবেন। তার একটা সরকারি চাকরি হলেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন। না হলে হয়তো আমাকেও পড়ালেখা বাদ দিয়ে কাজের সন্ধানে নামতে হবে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সেই সহযোগিতা করবেন।

যারা আমার বাবাকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, আমি চাই তাদের শাস্তির রায় কার্যকর হোক। ঈদে যখন আমার চাচারা বাড়িতে আসেন, আমি দৌড়ে গিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরি- একটু মমতা-ভালোবাসা পাওয়ায় আশায়। তখন বাবার কথা মনে পড়ে খুব কান্না পায়। এই কষ্ট নিয়েই বাকি জীবনটা কাটাতে হবে।