এই যন্ত্রণা আমি ছাড়া কেউ বোঝে না

মাহবুবা পারভিন, গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

-

বাসার সবাই যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে, তখন আমি জেগে থাকি। শরীরের ভেতরে থাকা ২১ আগস্টের গ্রেনেডের স্প্নিন্টারগুলো আমাকে ঘুমাতে দেয় না। এক হাজার ৮০০ স্প্নিন্টার কুরে কুরে খায়। এ বেদনাদায়ক যন্ত্রণা আমি ছাড়া কেউ বোঝে না। তবে এই কষ্টের কথা বোঝেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অসামান্য অবদান ও সহযোগিতার কারণেই গ্রেনেড হামলায় আহতরা বেঁচে আছেন। আহতদের তিনি বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন বলেই আমরা অনেকেই এখনও কিছুটা সুস্থ আছি। ভালোভাবে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট দিয়েছেন। আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করেছেন। যতদিন বেঁচে থাকব, তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাইব।

ভয়াবহ সেই গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হয়েছে। আমি রায়ে সন্তুষ্ট। তবে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক জিয়াসহ জড়িতদের শাস্তি দেখে যেতে পারলেই শান্তি পাব। দলের দুঃসময়ে রাজনীতি করেছি। এখনও দলের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যাওয়ার চেষ্টা করি। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সব ক্ষেত্রে যেতে পারি না। স্থানীয় রাজনীতিবিদরা তেমন মূল্যায়ন করেন না। তা নিয়ে আমার দুঃখ নেই। কারণ নেত্রীই আমার খোঁজ-খবর রাখেন; তাই অন্য নেতারা কে কী করল তা নিয়ে আফসোস করি না। পহেলা বৈশাখে নেত্রী আমাকে একটা শাড়ি দিয়েছেন। শাড়িটি সযত্নে রেখে দিয়েছি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যদি নেত্রীর কিছু হয়ে যেত, তাহলে আমরা এভাবে বেঁচে থাকতে পারতাম না। রচনা হতো অন্য এক বাংলাদেশের। নেত্রী বেঁচে আছেন বলেই আজ মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ সারাবিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে। উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই পূরণ হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।