সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ৬৮, আরও ২ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ডেঙ্গুতে আরও আটজনের মৃত্যু সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে চলতি বছর সরকারিভাবে ডেঙ্গুতে ৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গঠিত ডেথ রিভিউ কমিটি ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে।

ওই কমিটির কাছে সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ২০৩টি মৃতদেহের নমুনা পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে ১১৬টি পর্যালোচনা করে সোমবার পর্যন্ত তারা ৬৮ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। 

এদিকে সোমবার ডেঙ্গুজ্বরে আরও দু'জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর বেসরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২১৪ জনে পৌঁছাল। 

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুসহ দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে রাফিত নামে ৮ মাসের এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১০টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া খবিরুদ্দিন নামে আরেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

রাফিতের গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলায় এবং খবিরুদ্দিনের গ্রামের বাড়ি অভয়নগরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার নতুন করে আরও ৬৫৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত শনি ও রোববার এ সংখ্যা ছিল ৫২৭ ও ৬১৯। সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট চব্বিশ ঘণ্টা ধরে প্রতিদিন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি রোগীর তালিকা করা হয়।

সে অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৯৩ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা হাসপাতালে ৪৬০ রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ৮১ হাজার ৮৩৯ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ হাজার ১২৯ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৫০৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে রাজধানীর ৪১ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৯৮৩ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা সদর হাসপাতালে এক হাজার ৫২৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন।