রাব্বানীর জিএস থাকার নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন

ঢাবি সিনেট থেকে শোভনের পদত্যাগ

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

গোলাম রাব্বানী

চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের পদ হারানোর পর গোলাম রাব্বানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস পদে থাকার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। দুই দফা দাবিতে তারা সরব হয়ে উঠেছেন। তারা মনে করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে সাধারণ ছাত্ররা কখনও তাদের প্রতিনিধি মানতে পারেন না।

এদিকে, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারানো গোলাম রাব্বানী। গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ ক্ষমা চান তিনি। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শোভন ও রাব্বানী সংগঠনের শীর্ষ পদ হারান। গত শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আলোচনার পর দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এ দুই নেতার পরিবর্তে আল নাহিয়ান খান জয়কে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

এদিকে, সংগঠনের পদ থেকে শোভন-রাব্বানীর বাদ পড়ার পর দুই দফা দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট থেকে শোভনের পদত্যাগের আগেই তারা মন্তব্য করেছিলেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নৈতিকভাবে শোভন-রাব্বানীর ডাকসু ও সিনেটের সদস্যপদে থাকার অধিকার নেই।

পদ হারানোর বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে গতকাল গোলাম রাব্বানী লেখেন, 'মমতাময়ী নেত্রী, আপনার মনে কষ্ট দিয়েছি, আমি অনুতপ্ত, ক্ষমাপ্রার্থী। প্রিয় অগ্রজ ও অনুজ, আপনাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তির পুরো মেলবন্ধন ঘটাতে পারিনি বলে আপনাদের কাছেও ক্ষমাপ্রার্থী।'

তিনি আরও লেখেন, 'মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমিও ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। তবে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে আবেগ-ভালোবাসার এই প্রাণের সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থি গর্হিত কোনো অপরাধ করিনি। আনীত অভিযোগের কতটা ষড়যন্ত্রমূলক আর অতিরঞ্জিত, সময় ঠিক বলে দেবে।'

রাব্বানী লেখেন, 'প্রাণপ্রিয় আপা, আপনি আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া, ১৭ কোটি মানুষের আশার বাতিঘর। আপনার দিগন্তবিস্তৃত স্নেহের আঁচল, এক কোণে যেন ঠাঁই পাই। আপনার ক্ষমা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বাকিটা জীবন চলতে চাই।'

ঢাবি সিনেট থেকে শোভনের পদত্যাগ : গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট থেকে পদত্যাগের চিঠি উপাচার্যের কাছে দেন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তার পক্ষে পদত্যাগপত্র জমা দেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবিব, ডাকসুর সদস্য রফিকুল ইসলাম এবং ছাত্রলীগ নেতা ফেরদৌস আল মাহমুদ পলাশ।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শোভনের পদত্যাগপত্র পেয়েছি। সংশ্নিষ্ট সভায় বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা হলেন- শোভন, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র, ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী এবং সদস্য তিলোত্তমা শিকদার।

ডাকসুতে থাকার অধিকার নেই রাব্বানীর :ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, তার (রাব্বানী) বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণ হওয়ায় ছাত্রলীগের পদ তিনি হারিয়েছেন। তাই নৈতিকভাবে তার ডাকসুর পদে থাকার অধিকার নেই। এমনকি সিনেট থেকেও অপসারণ প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত এক ডাকসু নেতা বলেন, নৈতিক কারণে তিনি (রাব্বানী) ডাকসুতে থাকবেন, নাকি পদত্যাগ করবেন- এটি তার নিজের সিদ্ধান্ত। আর নৈতিক স্খলনের দায়ে পদচ্যুতির ব্যাপারে ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এ ক্ষেত্রে কারও পদ বাতিল, স্থগিত বা বহিস্কারের বিষয়টি ডাকসুর সভাপতি, অর্থাৎ উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতাবলে হয়ে থাকে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বিশেষ ক্ষমতাবলে ডাকসুর সভাপতির উচিত রাব্বানীর জিএস পদ বাতিল করা।

ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, পদত্যাগের বিষয়টি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক ব্যাপার, এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু করার নেই। তবে ডাকসু বা শিক্ষার্থীরা যদি কোনো অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি দেখা হবে।

পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের দাবি ছাত্রজোটের : গোলাম রাব্বানীকে ডাকসুর জিএস পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তারা ডাকসুতে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছেন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল। এতে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়।