ক্যাসিনো থেকে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার খালেদের

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া- ফাইল ছবি

ক্যাসিনোর বিষয়ে অনেক কিছুই অস্বীকার করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ দাবি করেছেন, ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও ক্যাসোনিতে ঢুকতেন না তিনি। তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে ক্যাসিনো চালাতেন। সভাপতি হিসেবে তিনিও ক্যাসিনো থেকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা পেতেন। যে ব্যক্তি ক্যাসিনো চালানোর দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই টাকা ভাগবাটোয়ারা করতেন বলে দাবি খালেদের। অবশ্য তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানিয়েছে, থানা পুলিশকে হাত না করে বছরের পর বছর এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব। আর এ কারণেই অবৈধ কারবারে জড়িতরা সবার আগে 'ম্যানেজ' করে থানা পুলিশকে। সেটিই ঘটেছে রাজধানীর মতিঝিলের আরামবাবের ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে।

সূত্র জানায়, আরামবাগের ক্যাসোনির ক্লাব থেকে সবচেয়ে বেশি টাকা পেতেন মতিঝিল থানার উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা। এ ছাড়া পুলিশের মতিঝিল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার পকেটেও ঢুকত ক্যাসিনোর অবৈধ টাকা। গ্রেফতারের পর খালেদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এসব তথ্য দিয়েছেন।

জানা গেছে, খালেদের 'গুরু' ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। তবে সম্প্রতি সম্রাটের সঙ্গে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তার। আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিলো খালেদের। এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন তিনি। জিসানের সহযোগিতা নিয়ে টেন্ডারবাজিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। সেই টাকার ভাগ বিদেশে জিসানের কাছে পৌঁছে যেত। টেন্ডারবাজির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে জিসানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে তার। টেন্ডার ও চাঁদাবাজির জন্য খালেদের একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে। এ বাহিনীর একটি বড় অংশ শাজাহানপুর এলাকার। চাঁদা আদায়ের জন্য কমলাপুরে টর্চার সেল খুলেছিলেন তিনি। সেখানে ইলেকট্রিক শক দেয়ার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং গায়ের চামড়া জ্বালাপোড়া করে এমন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ছিল। 

ঠিকাদার এবং ব্যবসায়ীদের কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ক্যাডারদের দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হত ওই টর্চার সেলে। সেখানে আটকে রাখে চলত অমানুষিক নির্যাতন। চাঁদার টাকা হাতে না আসা পর্যন্ত আটক ব্যক্তির শরীরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হত। পাওনা টাকা না পেয়েও অনেককে টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পর তার ঘনিষ্ঠ এবং তার ক্যাডার বাহিনীর অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। এমনকি মোবাইল ফোনও বন্ধ রেখেছে কেউ কেউ।

গত বুধবার র‌্যাব খালেদের ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবসহ ঢাকার চারটি ক্ল্যাসিনো ক্লাবে অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করে দেয়। এ সময় কমলাপুরে তার টর্চার সেল থেকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া মেশিন পাওয়া যায়। অবৈধ ক্যাসিনো চালানোসহ বিভিন্ন অভিযোগে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের প্রভাবশালী এই নেতাকে। তার বিরুদ্ধে গুলশান এবং মতিঝিল থানায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়।

এসব মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শনিবার ছিল রিমান্ডে দ্বিতীয় দিন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছু তথ্য দিলেও অনেক কিছুই অস্বীকার করছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সূত্র।

ডিবির উত্তরের উপ পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুইদিনের জিজ্ঞাসাবাদে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেসব যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।