সুলতানা কামালের চিঠি

বেক্সিমকোর অবদান টিআইবি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনে করে, ব্যক্তি মালিকানাধীন খাতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে বেক্সিমকো গ্রুপের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এ গ্রুপের সক্রিয় ও বহুমুখী ভূমিকা যৌক্তিক কারণে সর্বজনবিদিত। শুধু তাই নয়, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অন্যতম ক্ষেত্র ব্যক্তিমালাকানাধীন খাতের নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেক্সিমকোর ব্যবসায়িক মডেল ও চর্চা এ খাতে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় ছোট-বড় সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয়। 

টিআইবি'র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল সম্প্রতি বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমানকে লেখা এক চিঠিতে এমন মন্তব্য করেছেন।

বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে টিআইবি বাংলাদেশ ব্যাংকের সমালোচনা করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতি দেয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের ওই বিবৃতিতে বেক্সিমকোর ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে উল্লেখ করে পরের দিন টিআইবির চেয়ারপারসনকে চিঠি দেন বেক্সিমকোর চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান। 

সুলতানা কামাল ওই চিঠির উত্তরে বলেছেন, বেক্সিমকো বা এর ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বা টিআইবির লক্ষ্য হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না। বেক্সিমকোর ঋণ পুন:তফসিলের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে টিআইবি সঙ্গতভাবে বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের পরিপন্থি ওই সুবিধা দেওয়া হলে তা হবে আত্মঘাতীমূলক। এছাড়া এর ফলে লক্ষাধিক কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা ও তারল্য সংকট আরও ঘনীভূত হবার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। এই উদ্বেগ প্রকাশই ছিল টিআইবির উদ্দেশ্য। জনস্বার্থে নিয়োজিত অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশ ব্যাংক যখন তার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা যথাযথভাবে পালনে ব্যর্থ হওয়ার মুখোমুখি হয় তখন তার সমালোচনা করা এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানোকে টিআইবি নৈতিক কর্তব্য মনে করে।

টিআইবি চেয়ারপারসনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের পরিচয় বা অবস্থানের ওপর নির্ভর করে টিআইবির কার্যক্রম কোনোভাবেই প্রভাবিত হয় না। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনকালেও টিআইবি সুশাসনের পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের নামে ক্ষমতা অপব্যবহারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করতে পিছপা হয় নি। এ কারণে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হতে হয় টিআইবিকে। সেই সময়কালে সেনাবাহিনীর একাংশের দুর্নীতিসহ বহুমুখী বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে টিাইবি তার নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ গবেষণা প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল।

সুলতানা কামাল বলেন, কারও প্রতি ইঙ্গিত করা টিাইবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য নয়। সংস্থাটি এটিও বিশ্বাস করে, দেশের অর্থনীতিতে অন্য যেকোনো প্রথিতযশা প্রতিষ্ঠানের মতো বেক্সিমকো গ্রুপের ইতিবাচক অবদান টিআইবি সব সময় গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।