বিশেষজ্ঞ মত

নদীতে যন্ত্রের যন্ত্রণা বন্ধ করতে হবে

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

আমাদের নদনদীর জন্য নতুন বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বালু ও পাথর উত্তোলন। প্রথমে পাথর উত্তোলনের কথা বলি। জাফলং অঞ্চলে গেলে দেখা যায়, চমৎকার নদীগুলোর কী বীভৎস অবস্থা হয়েছে! একই পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদীগুলো। আসলে পাহাড়ি  নদী থেকে পাথর আহরণ নতুন নয়। ঐতিহ্যগতভাবে পাথর উত্তোলন করলে প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতিও হয় না। কিন্তু বোমা মেশিন বসিয়ে যখন থেকে পাথর তোলা শুরু হলো, তখন থেকেই বিপদের শুরু। সিলেটের সাদা নদীগুলো খয়েরি হয়ে গেছে। চারপাশে শব্দদূষণও প্রকট। মৎস্যসম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। এসব করেও কিন্তু আমাদের পাথর আমদানি করতে হচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু নদীগুলো নষ্ট করা হচ্ছে কেন?

বালু উত্তোলনের বিষয়টি আরও জটিল। অর্থনৈতিক বিবেচনায় বালুমহাল ইজারা দিয়ে এর সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি বিবেচনা করা হচ্ছে না। যাদুকাটা, ধোপাজানের মতো নদীগুলো বালু উত্তোলনের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। আরও অনেক নদী ছিন্নভিন্ন। স্থানীয় অধিবাসীরা এসবের বিরুদ্ধে কথা বলছে, অভিযোগ করছে, কিন্তু জেলা প্রশাসকরা আমলে নিচ্ছেন না। পরিবেশ অধিদপ্তর তাও অনেক সময় অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয় বা পরিদর্শন করে থাকে। জেলা প্রশাসকরা তাও করেন না। ফলে বালু সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে পড়েছে।

বালুমহাল আইনে স্পষ্ট বলা আছে, কোন ধরনের নদী থেকে কতটুকু বালু তোলা যাবে। জীববৈচিত্র্য ও নদীর কাঠামো সুরক্ষিত রেখে বালু তুলতে গিয়ে কী কী করতে হবে। কিন্তু ইজারা দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকরা এসব বিষয়ে কোনো নজরদারি করছেন না। আবার ইজারা হালনাগাদ করার সময়ও আগের মেয়াদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখছেন না। নদীতে বালু উত্তোলনে ইজারার ধারও ধারে না অনেকে।

যেমন পাথর, তেমনই বালু উত্তোলনে যন্ত্রের ব্যবহার পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। নদীতে যন্ত্রের এই যন্ত্রণা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে আমাদের নদীগুলোর কাঠামো ও মৎস্যসম্পদ আরও বিপন্ন হয়ে পড়বে।