বিশেষজ্ঞ মত

শুধু ড্রেজিং দিয়ে ভাঙন রোধ হবে না

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ড. মমিনুল হক সরকার

নদীর ভাঙন রোধে আগে শহর রক্ষা বাঁধ তৈরি করা হতো। বড় বড় শহর, যেমন- রাজশাহী, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি নদী-তীরবর্তী শহর রক্ষা বাঁধ অনেক প্রাচীন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গ্রোথ সেন্টার বা ছোট শহর বা উৎপাদন কেন্দ্রকেও ভাঙন থেকে রক্ষায় বাঁধ তৈরি করা  হতো। গত দেড় দশকে ছোট ছোট জনপদ বা কৃষি জমি রক্ষায়ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

বাঁধ দিয়ে ভাঙন রোধের এ ব্যবস্থা ব্যয়বহুল, সন্দেহ নেই। যে কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় পরামর্শ দিয়ে থাকেন, নদী থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে বসতি করলেই হয়! তাহলেই নদীভাঙনে ক্ষতি হয় না। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। আমরা নদীর সঙ্গেই বসবাস করি। আমাদের জনগোষ্ঠীর এত জমিজমা নেই যে, একখানে ভাঙন দেখা দিলে আরেকদিকে গিয়ে বসতি স্থাপন করবে। বাংলাদেশের মানুষকে নদীর সঙ্গেই বসবাস করতে হয়। আমাদের কৃষিজমিও সীমিত। প্রতি ইঞ্চিতে ফসল উৎপাদন করতে হয়। তাই জনবসতি বা কৃষিজমিকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমাদের দেশে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে হয়।

ভাঙন রোধে অনেকে ড্রেজিংয়ের কথা বলেন। আমি মনে করি, শুধু ড্রেজিং দিয়ে ভাঙন রোধ করা যাবে না। এর সঙ্গে তীর সংরক্ষণও জরুরি। আর ড্রেজিংয়ের খরচ বিপুল। প্রতিবছর ড্রেজিং না করলে মাঝে-মধ্যে করে লাভ নেই। বাংলাদেশের মতো দেশের পক্ষে প্রতিবছর ড্রেজিংয়ের খরচ বহন করা কঠিন।

আশার কথা, গত দেড় দশকে প্রাকৃতিক ও ব্যবস্থাপনাগত কারণে ভাঙনের হার কমে এসেছে। ভাঙন রোধে যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর মান উন্নয়ন ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে। যেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড পারছে না, সেখানে সেনাবাহিনীকে নিযুক্ত করা হচ্ছে। আগের তুলনায় ভাঙন রোধবিষয়ক প্রকল্পের কার্যকারিতা বেড়েছে, অনিয়মও কমেছে।

যমুনা নদীতে আগে পাঁচ থেকে ছয় হাজার হেক্টর ভূমি ভাঙনে বিলীন হতো। এখন সেটা কমে দেড় থেকে দুই হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে। এখন চেষ্টা চলছে কীভাবে যমুনা নদীতে ভাঙন রোধ করে ভূমি উদ্ধার করা যায়। এ জন্য মহাপরিকল্পনা হয়েছে। নদীটি এখন গড়ে ১২ কিলোমিটার প্রশস্ত। এটাকে গড়ে ৫-৬ কিলোমিটারে আনার পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু এ কাজ সাবধানতার সঙ্গে করতে হবে। কারণ যমুনা এখনও তুলনামূলক 'নতুন' নদী। একে নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ নয়।