বেপরোয়া চালকরা এখন সরকারকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সৈয়দ আবুল মকসুদ

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে যখন আমরা আন্দোলন করেছি, তখন এ কথা বলিনি যে, কখনও সড়কে দুর্ঘটনা ঘটবে না। দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি হয়ে থাকে।

সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া সংসদে পেশ করার আগে যখন নাগরিক সমাজ থেকে আমাদের মতামত নেওয়া হয় তখন আমি বলেছিলাম, সড়ক দুর্ঘটনার একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা থাকা উচিত। কোনটা দুর্ঘটনা আর সড়কে হত্যাকাণ্ড তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটলে সেটাকে হত্যাকাণ্ড ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এবং এ রকম ঘটনার জন্য চালকের ৩০২ ধারার শাস্তি ছিল আমাদের দাবি।

মালিক-শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের আপত্তির কারণে আমাদের সেই দাবি গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি চালকের সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান করাও সম্ভব হয়নি। তারা বলতে লাগলেন- 'মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে রাস্তায় নামব না।' চালকদের তারা বিভ্রান্ত করলেন। অথচ যুক্তিসঙ্গত হচ্ছে, অনিবার্য কারণে ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনার জন্য চালকের কোনো শাস্তি হবে না। তবে দুই চালক পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে মানুষ চাপা দিয়ে মারলে তা কোনো বিচারেই সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড।

এখন বাস্তবতা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কের নিরাপত্তা বিধানে আন্তরিক চেষ্টা করলেও একটি অশুভ সিন্ডিকেটের কাছে সরকার আটকে পড়েছে। সরকার মোটেও কঠোর হতে পারছে না। বরং এখন দেখতে পাচ্ছি সড়কের গণপরিবহনের চালকরা অতি মাত্রায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এখন সরকারকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে বা দেখাতে চাইছে।

গণপরিবহনের মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বোঝা উচিত- তারা যেমন শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন, জনগণের শক্তিও তাদের চেয়ে কম নয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান মিয়া সম্প্রতি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় বলেছেন, শুধু পুলিশ দিয়ে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যেভাবে আইন ভঙ্গ করার অভ্যাস শুরু হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মহানগর পুলিশ কমিশনার এটাও বলেছেন, গণপরিবহন যেমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, যদি জনগণও বেপরোয়া হয়ে ওঠে তাহলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব নয়। তিনি যথার্থই বলেছেন।

ফুটপাতে বাস উঠে পথচারীকে চাপা দেবে, এটা সড়ক দুর্ঘটনা নয়। প্রতিবাদকারীদের ওপর বাস তুলে দিয়ে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাসের মালিক-চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।