এমপি পদ হারাতে পারেন বিএনপি নেতা হারুন

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক ও শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি

শুল্ক ফাঁকির মামলায় সাংসদ হারুনকে সোমবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা গাড়ি বিক্রি করে শুল্ক ফাঁকির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদস দস্য হারুন অর রশিদ এমপি পদও হারাতে পারেন। উচ্চ আদালতে দণ্ড বহাল থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি অংশ নিতে পারবেন না। কারণ সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে তার। 

সাংসদ হারুন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপিদলীয় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হন তিনি।

সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কোনো ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হওয়া বা সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারাবেন। আর জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো এমপিকে তার পদে থাকার অযোগ্য মনে হলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা গাড়ি বিক্রি করে শুল্ক ফাঁকির মামলায় সাংসদ হারুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম সোমবার হারুন অর রশিদের উপস্থিতিতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য দুই আসামি এনায়েতুর রহমান বাপ্পী ও ইশতিয়াক সাদেক পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

দুদকের দায়ের করা এ মামলার তিন আসামির মধ্যে সাংসদ হারুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দুই আসামি চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান বাপ্পীকে দুই বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত। পাশাপাশি গাড়িটি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১২ বছর আগে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছিল।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল ব্রিটেন থেকে হামার ব্র্যান্ডের শুল্কমুক্ত একটি গাড়ি এমপি কোটায় আমদানি করেন হারুন অর রশিদ। পরে ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের অঙ্গীকারনামা ভঙ্গ করে শুল্ক বাবদ সরকারের ৮৭ লাখ ৭১ হাজার ৬১২ টাকা ফাঁকি দিয়ে স্কাই অটোসের মালিক ইশতিয়াক সাদেকের মাধ্যমে তিনি গাড়িটি এনায়েতুর রহমান বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়। তবে তিনি নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হন।

নিয়ম অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়। শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানি করে তা বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগে এমপি হারুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ১৭ মার্চ রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলা হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৮ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোনায়েম হোসেন। আদালত ২০০৭ সালের ২০ আগস্ট হারুনসহ তিন আসামির চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করেন। বিভিন্ন সময় আদালতে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন। আদালতে হারুন অর রশিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গনী টিটো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল: এদিকে এ রায় ঘোষণার পরপরই এর প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিস এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং এ সময় এমপি হারুনের মুক্তির দাবি জানানো হয়।