সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনও কমিয়ে আনার কথা বলেছেন তিনি।

এ রকম বহু ঘটনা থেকে উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশে কোনো কোনো প্রকল্পের একদল কর্মকর্তা একবার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে যান। তারা ফিরে এসে রিপোর্ট দেন। আরেক দল আবার চুক্তির জন্য যায়। তারা ফিরে এসে একইভাবে রিপোর্ট করেন। আবার আরেক দল যায় কেনাকাটার অর্থ লেনদেন করার জন্য। এতে জনগণের অর্থের অপচয় হয়। অহেতুক সময়ক্ষেপণ হয়।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা নির্বাচন এবং এক সফরেই সম্ভব সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মঙ্গলবার এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেকেরও চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। একনেকের বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী ছাড়াও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে সংশ্নিষ্ট কয়েকজন সচিবকে নিয়ে মঙ্গলবারই বৈঠকে বসেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বৈঠকে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর-সংক্রান্ত কাজ এবং প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।

মঙ্গলবারের একনেকে নতুন পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৬৩৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই অর্থের একটা বড় অংশ তিন হাজার ১৬০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাকি এক হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন মেডিসিন এবং রেফারেন্স সেন্টার নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি না করে শুধু মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের জেদ্দায় কনস্যুলেট জেনারেল ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গেই মূলত প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে কথাগুলো বলেছেন। এ রকমও হয়েছে, বিদেশি জমি কেনার পর টাকা নিয়ে যেতে দেরি হওয়ায় জমি অন্যত্র বিক্রি হয়ে গেছে। এ রকম অনেক কাজে অতিরিক্ত সময় অপচয় হয়েছে। জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সময় এবং অর্থ অপচয় দুর্নীতির চেয়েও ভয়ংকর। কেউ অপচয় করলে তাকে তিরস্কার করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও জোর দিয়েছেন। জেদ্দায় কনস্যুলেট জেনারেলের ভবনে সেবার সব সুবিধা রাখা হবে, যাতে সৌদিপ্রবাসীরা পাসপোর্ট, ভিসাসহ তাদের যে কোনো সমস্যা নিয়ে আসতে পারেন। সেবা নিয়ে যেন তারা খুশি থাকতে পারেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নতুন করে সরকার যত সাইক্লোন শেল্টার করবে, সেগুলো বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী করে নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে স্কুলঘর হিসেবে যেন ব্যবহার করা যায়। শেল্টারে সুবিধা বাড়ানোর জন্য সংযোগ সড়ক নির্মাণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পর্যাপ্ত টয়লেটের ব্যবস্থা রেখে আধুনিকায়ন করা হবে। বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্প (এমডিএসপি) প্রসঙ্গে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার এ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের মান উন্নয়ন ও প্রশস্ত করা, দর্শনা-মুজিবনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, চাষাঢ়া-খানপুর-হাজিগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ক নির্মাণ। এ প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।