নুসরাত হত্যা: রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক ও নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ডেথ রেফারেন্সের জন্য হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় জমা হয়েছে। 

মঙ্গলবার ফেনী আদালত থেকে বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে হত্যা মামলা সংক্রান্ত দুই হাজার ৩২৭ পৃষ্ঠার রায়সহ নথি হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র (অতিরিক্ত জেলা জজ) ব্যরিস্টার সাইফুর রহমান।

এদিকে নুসরাত হত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'নুসরাত হত্যা মামলার আসামীদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসেছে। এখন নিয়ম অনুসারে নথিগুলো আদালতের কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন। এ মামলার পেপারবুক যেন তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়, সেটি দেখা হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'যেহেতু এ মামলায় দেশবাসির আবেগ জড়িত এবং বিচার পাওয়ার আকাঙ্খা সারা দেশবাসীর, কাজেই তড়িৎ গতিতে শুনানির যত রকমের পদক্ষেপ নেওয়ার আছে, তা নেওয়া হবে।'

নুসরাতকে হত্যার দায়ে গত ২৪ অক্টোবর মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় দেন। গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্নীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার সোনাগাজী থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়। পরে অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। আলোচিত এ মামলায় মাত্র ৩১ কার্যদিবস শুনানির পর রায় দেন ফেনীর আদালত।