জাবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ধর্মঘট চলছেই

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯      

জাবি প্রতিনিধি

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে ধর্মঘট-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। 

এছাড়া আন্দোলনকারীরা দুর্নীতির প্রতিবাদে ব্যাঙ্গাত্মক ক্যানভাস র‌্যালি ও উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা সহকারী প্রক্টর আহতের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। শুক্রবার ও শনিবার সান্ধ্যকালীন কোর্সও ধর্মঘটের আওতায় থাকবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। 

বৃহস্পতিবার ছিল ধর্মঘটের চতুর্থ ও প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ষষ্ঠ দিন। দিনব্যাপী ধর্মঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন ছিল অবরুদ্ধ। তবে আন্দোলনকারীদের পূব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তোলার জন্য খোলা ছিল শুধু একাউন্টস অফিস। 

দিনব্যাপী অবরোধ ও ধর্মঘট কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আজও অবরোধ ও ধর্মঘট পালিত হয়েছে। সবধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বেতন তোলার জন্য কয়েক ঘণ্টা খোলা ছিল একাউন্টস অফিস। আর অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাও ধর্মঘটের সমর্থনে ক্লাস-পরীক্ষায় আসেনি। তবে কয়েকটি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।’ 

শুক্রবার ও শনিবার সান্ধ্যকালীন কোর্সে ধর্মঘটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নির্ধারিত বিভাগগুলো সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তারা যদি আমাদের কাছে সহযোগগিতা চায় আমরা করব।’ 

এছাড়া উপাচার্য ও প্রশাসনের দুর্নীতির প্রতিবাদে ব্যানারে আঁকা বিভিন্ন রকামের ব্যাঙ্গাত্মক চিত্র নিয়ে র‌্যালি করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ত্রিশ গজ দীর্ঘ রঙ তুলির এ ক্যানভাস জুড়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে ধরেন তারা। ক্যানভাসে ‘লাগ ভেলকি লাগ, ফারজানা তুই ভাগ’, ‘টাকার চিন্তায় ঘুম আসে না’ সহ নানা ব্যাঙ্গাত্মক উক্তি এবং চিত্র অঙ্কিত ছিল।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চ’ থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার, অমর একুশ, পুরাতন কলা ভবন হয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। 

এদিকে সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবালের উপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

এ সময় উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা দাবি করেন, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাক বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবালের উপর কতিপয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী অতর্কিত ‘হামলা’ করে, ফলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।

তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের শাস্তির দাবি করে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’র সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী বলেন, ‘মহিবুর রৌফ শৈবাল আমাদের সহকর্মী, ছাত্র এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া একজন ভাল অভিনেতা ও নাট্যকর্মী সহ তিনি অনেক কিছুর সাথে জড়িত আছেন। তার উপর যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, সেটা দেখে আমাদের কাছে ৭১ সালের কথাই মনে পড়ে যায়।’

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফখরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক নীলাঞ্জন কুমার সাহা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নুহু আলম, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক এ কে এম ইউসুফ হাসান ও সহযোগী অধ্যাপক সোমা মুমতাজ প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সাড়ে ১৪শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ঈদ সেলামি দেয়ার অভিযোগ উঠে। এরপর থেকে গত তিন মাস যাবত উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা সংগঠন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।