ব্যতিক্রমী পাঠাগার

কারাগারে 'বঙ্গবন্ধু কর্নার'

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

একটি-দুটি নয়, অর্ধশত লেখকের বই নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর চালু হয়েছে ব্যতিক্রমী পাঠাগার 'বঙ্গবন্ধু কর্নার'। আট হাজার বন্দির কাছে বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্নারে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচাসহ স্থান পেয়েছে বহু পুরনো বইও। কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি থেকেও যে কোনো বন্দি সহজেই জানতে পারছেন জাতির পিতার বর্ণাঢ্য জীবন সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুকে জানতে প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু কর্নারে হাজির হচ্ছেন বহু বন্দি। কোনো কোনো বন্দি আবার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা পছন্দের বইটি পড়তে কর্নার থেকে নিয়ে যাচ্ছেন রাতে ঘুমানোর ওয়ার্ডেও। এভাবেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানতে পারছেন কারাগারে বন্দি থাকা হাজার হাজার বন্দি।


এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. কামাল হোসেন বলেন, 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। তিনি না হলে একটি মানচিত্র পেতাম না। তাই প্রত্যেক নাগরিকের বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য জীবন সংগ্রাম সম্পর্কে জানা উচিত। এমন চিন্তা থেকেই কারাগারের ভেতর প্রায় অর্ধশত লেখকের বই নিয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার চালু করেছি। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা এই ব্যতিক্রমী পাঠাগারের উদ্বোধন করার পর এটি কারাবন্দি আট হাজার বন্দির জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে জানতে প্রতিদিনই বহু বন্দি এখানে আসছেন। বই পড়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে জানছেন।'

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কর্নারের উদ্বোধন করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু কর্নারে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখাসহ চার হাজার ৩১৫টি বই রয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়েই আছে প্রায় এক হাজার বই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রায় অর্ধশত লেখকের বই এখানে স্থান পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কর্নারে রয়েছে 'শেখ মুজিবুর রহমান :অসমাপ্ত আত্মজীবনী', শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগারের রোজনামচা, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বঙ্গবন্ধু আজ যদি বেঁচে থাকতেন', শেখ হাসিনার 'শেখ মুজিব আমার পিতা', তোফায়েল আহমেদের লেখা 'ঊনসত্তরের গণআন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু', শেখ সাদীর 'বঙ্গবন্ধু পূর্ণ জীবন', ব্রি. জেনারেল (অব.) মো. আশরাফুল ইসলাম খানের 'মহাকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি', মযহারুল ইসলামের 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব', মহসীন চৌধুরীর 'বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধু', আহমেদ রিয়াজের 'টুঙ্গিপাড়ার খোকা', ওবায়দুল কাদেরের 'বঙ্গবন্ধু ও দেশের কথা', বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণের শ্রুতিলিপি 'ওঙ্কারসমগ্র', মিজান রহমানের 'বঙ্গবন্ধু', আহমেদ আলিমের 'পাকিস্তানের কারাগারে শেখ মুজিবের বন্দি জীবন', হারুন অর রশিদের 'বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর পুনর্পাঠ', লুৎফর রহমান রিটনের 'বঙ্গবন্ধুসমগ্র', আহমেদ ফিরোজের 'ফিরে দেখা ১৫ আগস্ট', শারমিন আহমদের 'তাজউদ্দীন আহমদ নেতা ও পিতা', অরুণ কুমার গোস্বামীর 'বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ', আবদুল মান্নান সরকারের 'জনক', বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ছোটগল্প 'জনকের মুখ', শামসুজ্জামান খানের

'লেখক বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য', আনিসুল হকের 'বঙ্গবন্ধুর জন্য ভালোবাসা', মুস্তফা মনওয়ার সুজনের 'বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মতবাদ', গাজী হানিফের 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : এক শতাব্দীর বাঁকে', মুনতাসীর মামুনের 'বঙ্গবন্ধুর জীবন', মঞ্জুরুল আলমের 'বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালির জন্ম ইতিহাস', সোহরাব পাশার 'বঙ্গবন্ধু ও একাত্তরের পদাবলি', শহীদুল হক খানের 'বঙ্গবন্ধু সকলের', রাহাত মিনহাজের 'বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড কি চেয়েছিল ভুট্টোর পাকিস্তান', মনি হায়দারের 'বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের গল্প', হরেন্দ্রনাথ বসুর 'ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব', মঈনুল হক চৌধুরীর 'বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ', আবদুল রহিম শেলীর 'মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধের কথা', 'নির্বাচিত ১০০ ভাষণ-শেখ হাসিনা'সহ আরও বেশ কিছু লেখকের বই।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার মো. নাশির আহমেদ বলেন, 'বন্দিদের সঠিক ইতিহাস ও জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বন্দিদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত প্রয়োজনীয় বই সরবরাহ করা হচ্ছে এখান থেকে। বঙ্গবন্ধু কর্নার তৈরি করায় বন্দিরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে পারছে। পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু কর্নারকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।'