আবরার হত্যাকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত ব্যথিত দুঃখিত

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

শাহেদ চৌধুরী

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডে তিনি মর্মাহত, ব্যথিত এবং দুঃখিত।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি একজন মা। সন্তান হারানোর ব্যথা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন। তিনি আবরার ফাহাদের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েই হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভিন্নমত থাকতেই পারে। তাই বলে এভাবে পিটিয়ে মানুষ খুন করা হবে? সহপাঠীরা কীভাবে একজন সহপাঠীকে খুন করতে পারে? এরা কি মানুষ? এ কেমন বর্বরতা? এ ধরনের ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এর বিচার হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ভিন্নমত প্রকাশকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার রাজনীতি করেন না। তিনি কখনই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, এর পরও আন্দোলনের প্রয়োজন হবে কেন? আর আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টাও কেন হবে? আবরার হত্যাকাণ্ড ঘিরে কোনো অশুভ শক্তি অশুভ রাজনীতি করতে চাইলে তা বরদাশত করা হবে না বলেও প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

অনানুষ্ঠানিক এই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরতে হবে। কোনোভাবেই কারও ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। সারাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে হবে। নিন্দা জানাতে হবে। কোনো আপস করা যাবে না।

এ বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, তিন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পাঁচ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।