শিক্ষার্থী হত্যার বিচার হয় না

১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ হত্যাকাণ্ড

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আবু সালেহ রনি

২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্মমভাবে খুন হন মেধাবী ছাত্র আবু বকর। এ ঘটনায় করা মামলায় পরে এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইদুজ্জামান ফারুকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে মাশলাটি অধিকতর তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এতে আগের আটজনসহ আরও দুইজনকে অভিযুক্ত করা হয়। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায়ে ২০১৭ সালের ৭ মে ছাত্রলীগের সাবেক ১০ নেতাকর্মীর প্রত্যেকেই বেকসুর খালাস পান। অবশ্য রায় হওয়ার আট মাস পর আবু বকরের পরিবার ও গণমাধ্যম খবরটি জানতে পারে। কারণ, রায় ঘোষণার বিষয়টি আবু বকরের বাবা-মা, এমনকি বাদীকেও আগে জানানো হয়নি। আবু বকর খুনের রায় ঘোষণার পর আড়াই বছর পেরিয়ে গেছে। খালাস পাওয়া সেই আসামিদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে এখনও আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।

অবশ্য সরকার চাইলে আদালতে বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ এখনও আছে বলে জানিয়েছেন রায় প্রদানকারী ঢাকার অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতে সংশ্নিষ্ট মামলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম হেলাল। তিনি সমকালকে বলেন, 'আপিলের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে অধিভুক্ত সলিসিটর কার্যালয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে কোনো মতামত আসেনি। যে কারণে রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা হয়নি। তবে সে সুযোগ এখনও আছে।' পরে বিষয়টি নজরে নেওয়া হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শুধু আবু বকরই নন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও কথিত ছাত্র রাজনীতির করালগ্রাসে গত এক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাণ গেছে অন্তত ২৪ শিক্ষার্থীর। কিন্তু অধিকাংশ মামলায় যথাযথ বিচার পাননি নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।

উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হন। শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়েরও স্বপ্ন থাকে তাদের নিয়ে। কিন্তু এক দশকে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কর্তৃত্ব প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন এরা। এদের অধিকাংশ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি)। সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিশিষ্টজনের দাবি, ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এ জন্য এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে বারবার এ রকম রোমহর্ষক ঘটনা ঘটত না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত হত্যা মামলাগুলোর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার বিচারই শুধু বিচারিক আদালতে শেষ হয়েছে। অবশ্য এ রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল এখনও আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

চবিতে ৮ হত্যাকাণ্ড :২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে নিজের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ। দিয়াজের পরিবার ও তার অনুসারী ছাত্রলীগের কর্মীরা শুরু থেকেই 'পরিকল্পিত হত্যাকা ' বলে দাবি করে। লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর ২৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেলের চিকিৎসকদের দেওয়া প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনাটি 'আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করা হয়। তার ভিত্তিতে হাটহাজারী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলাও করে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন ও ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। দিয়াজের মায়ের আপত্তিতে আদালত তখন সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এরপর ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা দিয়াজের শরীরে হত্যার আলামত পাওয়ার কথা জানান। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই অধিকতর তদন্ত করছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত আরও সাতটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচারও এখন আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। এর মধ্যে ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চবির রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন কায়সার হত্যা, একই বছরের ২৮ মার্চ রাতে চবি মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র হারুন অর রশীদ হত্যা, ১৫ এপ্রিল চবি ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অ্যাকাউন্টিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান হত্যা, ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত দুই শিবিরকর্মী মুজাহিদ ও মাসুদ বিন হাবিব হত্যা, একই বছরের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে শাহ আমানত হল ছাত্রশিবিরের নেতা মামুন হাসেন হত্যা, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার হত্যা উল্লেখযোগ্য।

এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারের দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিবেদন দিতে অনেক সময় নিয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন পরে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অনেকেই এরই মধ্যে চাকরিসহ বিভিন্ন কারণে এলাকায় নেই। মূলত এসব কারণেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছে।

রাবিতে ৬ হত্যাকাণ্ড :রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-শিবির এবং ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গত ছয় বছরে নিহত হয়েছেন পাঁচ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপুর লাশ ক্যাম্পাসের ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয়। যার কোনোটির বিচার হয়নি এখনও।

তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হল দখলকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কর্মী ও গণিত বিভাগের ফারুক হোসেন, একই বছর ১৫ আগস্ট শোক দিবসের টোকেন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মী নাসরুল্লাহ নাসিম হত্যা, ২০১২ সালের ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল হাসান ওরফে সোহেল হত্যা, ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী আকন্দ হত্যা ও ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যা উল্লেখযোগ্য।

এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এখনও। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পদে যোগদান করেন। হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে তিনি সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হোক, এটা আমাদেরও প্রত্যাশা।

এ ছাড়া ২০১২ সালের ১২ মার্চ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল আজিজ খান সজীব, একই বছরে ৯ জুন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সহসভাপতি ফাহিম মাহফুজ বিপুল, ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে ১০ বছরের শিশু রাব্বি, ছাত্রলীগের নেতৃত্বের কোন্দলে ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক, হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী সায়াদ ইবনে মমাজ, একই বছরে ১৪ জুলাই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম রিয়াদ, একই বছর ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন চন্দ্র দাস, ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিবিএর শিক্ষার্থী জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মিল্টন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কাজী হাবিবুর রহমান ও ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ প্রাণ হারান।

বিশিষ্টজনের মত :জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'বুয়েটে আবরার হত্যার ঘটনা আমার জন্য অত্যন্ত দুঃখের। কারণ আমরা ভাবতাম, দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়াশোনা করে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো অত্যাচারের জাল বিছিয়ে রেখেছে।' তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে সকল মতপ্রকাশের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে মতপ্রকাশের জন্য কাউকে প্রাণ দিতে হবে, এটা ভাবা যায় না। রাজনীতিক দলগুলোর উচিত ছাত্র সংগঠনগুলোর লাগাম টেনে ধরা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংঘটিত হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আবরার হত্যার বিচার হয়তো হবে। কত দিনে হবে, সেটা বলা যায় না। কারণ, অতীতে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তার বিচার হয়নি এখনও। এ জন্য দরকার মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্র ও ছাত্র সংগঠন। আশা করি, এ বিষয়ে সরকার, রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।' এটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলেও মনে করেন তিনি।

বিচার না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক সমকালকে বলেন, 'ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সমান্তরাল আরেকটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগ করছে। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ রকম উদাহরণ আমরা গত দু-তিন দশকে দক্ষিণ আমেরিকায় মাদকের মাফিয়া চক্রের ক্ষেত্রে দেখেছি, যাদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের দেশের ছাত্র সংগঠনগুলোও সেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যাচ্ছে।'

রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতির কারণে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা হয়- এমন মন্তব্য করে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, হত্যা মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জন্য ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করা প্রয়োজন।