এ কী হাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের!

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাব্বির নেওয়াজ

দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। কোনো কোনোটিতে চলছে শিক্ষক অথবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। কোথাও আবার উপাচার্য বা উপ-উপাচার্য নিজেরাই সমস্যা তৈরি করেছেন। নিয়োগ নিয়ে ঘুষের অডিও ভাইরাল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কোথাও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পদ, যথা- ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারারের বিভিন্ন পদই শূন্য। ফলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নেই এক মাস ধরে। গত সেপ্টেম্বরে অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে টানা ১২ দিন আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বাধ্য হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন ভিসি ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। এর সাত দিন পর ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহানকে ভিসির চলতি দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এখনও সেখানে পূর্ণকালীন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। টানা পাঁচ মাস পর উপাচার্য পেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের  সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন (আরেফিন মাতিন)। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার। এমনকি নেই কোনো রেজিস্ট্রারও। পুরো অভিভাবকশূন্য অবস্থায় পাঁচ মাস চলছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এতদিন উপাচার্য না থাকায় এ বছরের ভর্তি পরীক্ষাও নির্ধারিত সময়ে হতে পারেনি, এখনও হয়নি।

ভিসি বা প্রো-ভিসি কেউ না থাকায় ট্রেজারার অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব হাসান টানা পাঁচ মাস বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৭ অক্টোবর তার মেয়াদও শেষ হয়। প্রায় এক বছর ধরে শূন্য রয়েছে রেজিস্ট্রার পদ। ফলে ভিসির রুটিন দায়িত্ব পালন করার মতো পদাধিকারীও আর কেউ ছিলেন না। শিক্ষার্থীদের 'রাজাকারের বাচ্চা' বলায় দীর্ঘ ৩৪ দিন ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ২৬ মে উপাচার্য ড. এস এম ইমামুল হক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেন। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট সভা। আটকে আছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। গত ১৮ ও ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অভিভাবক না থাকায় এ পরীক্ষা হয়নি। কবে হবে তাও কেউ জানে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকও নেই।

৪৭ বছরের পুরোনো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ছিল না গত ১৫ জুন থেকে। চার মাস পার হওয়ার পর গতকাল রোববার প্রো-ভিসি অধ্যাপক শিরীন আখতারকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনিই এতদিন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ ভিসি অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়মিত ভিসি ছিল না দু'বছর ধরে। গতকাল নিয়মিত ভিসি হিসেবে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনিই এতদিন অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১ আগস্ট এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের জন্য সিনেট নির্বাচিত তিনজন অধ্যাপকের নামের প্যানেল চ্যান্সেলর বরাবর পাঠানো হয়। তিন মাস পার হওয়ার পর এ পদে নিয়োগের আদেশ এল।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুসারে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটিতে বর্তমানে ভিসি নেই। প্রো-ভিসি নেই ২৯টিতে। ট্রেজারার নেই ২৮টিতে। এসব পদে নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। তবে মূল ভূমিকা পালন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা এসব পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়। এরপর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিন এসব পদ শূন্য থাকায় এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শূন্যতা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবদুল্লাহ আল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পদশূন্যতার কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দেখভালকারী প্রতিষ্ঠান ইউজিসি গত ২২ অক্টোবর এসব পদে দ্রুত নিয়োগ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে তাগাদা দিয়ে পত্র দিয়েছে; যা এর আগে কখনও হয়নি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদ খালি রয়েছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

সমকালের সঙ্গে আলাপকালে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। তিনি বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ এসব পদ পূরণের জন্য মুখে বলে কাজ হয় না দেখে এবার লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছি মন্ত্রণালয়ে। অতীতে কেউ মন্ত্রণালয়কে এমনভাবে অনুরোধ করেননি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, চিফ এক্সিকিউটিভ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিরেকশন পাবে কোথা থেকে? চলবে কেমন করে? ইনশাল্লাহ এবার অ্যাকশন হবে।'

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব বরাবর লেখা ওই চিঠিতে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ আরও বলেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অন্ততপক্ষে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরি করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ জন্য সরকার দেশের অধিকাংশ জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও চিঠিতে বলা হয়।

এসব ব্যাপারে যোগাযোগ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এর আগে এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদ শূন্য রয়েছে, সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রমে যেন ব্যাঘাত না ঘটে সে জন্য কাউকে না কাউকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে থেকে নামের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উপ-উপাচার্য নেই যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯টিতেই বর্তমানে কোনো উপ-উপাচার্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিলেট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাজীপুর), হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (দিনাজপুর), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (টাঙ্গাইল), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় (নেত্রকোনা), বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিশ্ববিদ্যালয় (জামালপুর) ও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

ট্রেজারার নেই ১৮টিতে: ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ট্রেজারার নেই। মাত্র ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার আছে। ট্রেজারারবিহীন চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোপালগঞ্জ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জামালপুরে অবস্থিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও যত সমস্যা: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও নানাবিধ সমস্যা ও সংকট তৈরি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ভিসিবিরোধী আন্দোলন। সেখানে শিক্ষকদের একটি পক্ষ চাইছে বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম পদত্যাগ করে সরে যান। তারা নানা কর্মসূচি পালন করছেন। আরেক পক্ষ অধ্যাপক ফারজানার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটে ছাত্রলীগের নেতাদের হাতে মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম। শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট না দেওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস, পরীক্ষাসহ কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

একইভাবে দুটি হলের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত শনিবার হল ছেড়েছে ৭টি হলের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী। ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, ভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে ঘুষের বিনিময়ে এক প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অডিও ভাইরাল হয়, খোদ উপাচার্য অধ্যাপক রোস্তম আলীর কণ্ঠ রয়েছে তাতে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এ অডিও। ইতিহাস বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২৪ অক্টোবর সকালে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮ জন প্রার্থী অংশ নেন। ছয়জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে নিজের নাম না দেখে ক্যাম্পাসে হাজির হয়ে উপাচার্যের কাছে চাকরির জন্য ঘুষ হিসেবে দেওয়া টাকা ফেরত চান মো. মনিরুল ইসলাম নামের ওই প্রার্থী। পরে উপাচার্যের কাছে ওই চাকরিপ্রার্থীর টাকা চাওয়ার অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. রোস্তম আলী বলেন, অনুত্তীর্ণ কিছু প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন চলছে উত্তেজনা।

অপরদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক পদে চাকরি না পাওয়া স্বর্ণপদকধারী নুরুল হুদা নামের এক ছাত্রের স্ত্রীর সঙ্গে উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার টাকা-পয়সা লেনদেন-সংক্রান্ত ফোনালাপও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

শিক্ষাবিদ ও সাবেক উপাচার্যরা যা বলেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান, প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ কে আজাদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নেই। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা আছেন, তাদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন আছে। আমি মনে করি, শূন্য পদ পূরণে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দ্রুততার সঙ্গে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া দরকার, যেন বিশ্ববিদ্যালয় সঠিকভাবে চলতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট মিলিয়ে দেশে প্রায় দেড়শ' বিশ্ববিদ্যালয়। দেড়শ' উপাচার্য তো দূরের কথা, দেড়শ' জন ভালো মানের অধ্যাপক খুঁজে পাওয়াই তো কঠিন! তিনি বলেন, একটা কথা না বলে পারছি না- শুধু এসব পদে নিয়োগ দিলেই হবে না, প্রার্থীর একাডেমিক এক্সিলেন্স, লিডারশিপ কোয়ালিটি এবং ইন্টিগ্রিটি অব ক্যারেক্টার বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, আগে কখনও এমন দেখিনি। এতগুলো ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারার না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে চলে? তিনি দুঃখ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে এমন অনেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ভিসি না থাকলে প্রো-ভিসি বা ট্রেজারার দায়িত্ব পালন করবেন। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলসেই আছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকলে তাতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে বিরূপ প্রভাব পড়ে।