মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ: বিজয় কৃষ্ণের বিচার শুরু

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০১৯      

আদালত প্রতিবেদক

মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম শাসসুন্নাহার মঙ্গলবার চার্জ গঠনের আদেশ দেন। চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলার বিচার শুরু হলো।

এরআগে শুনানিকালে মামলার বাদী আদালতে বলেন, আসামিকে অব্যাহতি দিলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আদালত এর আগে মামলায় দেয়া ভিকটিমের জবানবন্দি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর্যালোচনা করে ধর্ষণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় চার্জ গঠনের আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আলী আসগর স্বপন বলেন, ধর্ষণের মামলায় আপোশের কোনো সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের আলামতের কথা বলা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল চার্জ গঠন করেছেন।

চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ তালুকদার বরগুনার বামনা থানার চালিতা বুনিয়া গ্রামের যোগেন্দ চন্দ্র তালুকদারের ছেলে। তিনি দক্ষিণখান থানাধীন দরিদ্র পরিবার সেবা সংস্থা ক্লিনিক পরিচালনা করেন। ধর্ষণের শিকার হওয়া কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

গত ২১ এপ্রিল মামলার বাদীর মেয়ে (১৩) চোখে আঘাতজনিত সমস্যা নিয়ে দক্ষিণখান থানাধীন হাজী মিল্লাত স্কুলের পাশের দরিদ্র পরিবার সেবা সংস্থায় (ক্লিনিক) আসামিকে চিকিৎসা করান। কিন্তু চোখের সমস্যা দূর না হওয়ায় ২৩ এপ্রিল আবার ক্লিনিকে যান তারা। আসামি ওই কিশোরীর শরীরে স্যালাইন দেন এবং একটি ইনজেকশন আনার জন্য ভিকটিমের বাবাকে ওষুধের দোকানে পাঠান। এই সুযোগে চিকিৎসক তাকে ধর্ষণ করেন। স্যালাইন শেষে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর মেয়ে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ওই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা ২৭ এপ্রিল দক্ষিণখান থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় চিকিৎসক বিজয় কৃষ্ণ তালুকদার মামলার দিনই গ্রেফতার হন। ২৬ মে সিএমএম আদালত থেকে আসামির জামিন পান। ৪ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা ডিএমপি উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেষ্টিগেশন বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক তৃপ্তি খান আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।