দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৭১ কোটি টাকার ১৫টি মামলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে- হেনান আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি। প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক আব্দুল মোতালেব।

বৃহস্পতিবার এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় এ মামলগুলো দায়ের করে। শুল্ক গোয়েন্দা অফিসের পক্ষে বিটন চাকমা ও শামসুন নাহার এ মামলা করেন।

জানা যায়, আনহুই এগ্রো এলসি এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এক পণ্যের নাম করে অন্য পণ্য এনেছে। গোয়েন্দা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত আইনে এটি অর্থ পাচার-সংক্রান্ত অপরাধ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেসার্স হেনান আনহুই এগ্রো এলসির বিপরীতে ছয়টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৪৩৯ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং মেসার্স এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি ৯টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৪৩১ কোটি ৭৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৩ টাকা পাচার করেছে। অর্থাৎ দুই প্রতিষ্ঠান পাচার করেছে ৮৭০ কোটি ৮৬ লাখ ২১ হাজার ৩৮৩ টাকা।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক পোলট্রি ফিডের নাম করে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার মেশিন ও মদ এনেছে। ৪৬ কনটেইনার ভর্তি এসব পণ্য ২০১৬ সালের বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল মোতালেবকে আটক করা হয় এবং পল্টন মডেল থানায় ২০১৭ সালে মামলা করা হয়। পরে শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তর গভীর অনুসন্ধান করে। এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত আমদানিকারক ১৫টি এলসির বিপরীতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কনটেইনার ভর্তি ওইসব পণ্য খালাস করেছে। মূলত শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচার করার উদ্দেশ্যে এ অপকর্ম করা হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, মেসার্স হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ২০১৬ সালের ২ জুলাই ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৭২১ টাকা, ২৮ আগস্ট ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৯ টাকা, ৯ অক্টোবর ৬৮ কোটি ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮১২ টাকা, ১৭ নভেম্বর ৬৮ কোটি ৬৫ লাখ ১ হাজার ১৪২ টাকা, ২৬ ডিসেম্বর ৮২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ টাকা এবং ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি ৮২ কোটি ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬ টাকা পাচার করেছে।

অন্যদিকে, মেসার্স এগ্রো ডিবি অ্যান্ড জেপি ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল ৪৬ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার ৪১০ টাকা, ৫ মে ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ১ হাজার ২০১ টাকা, ২২ মে ৪৬ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬৯ টাকা, ২০ জুন ৪৬ কোটি ৯২ লাখ ৯১ হাজার ৭২১ টাকা, ৪ ডিসেম্বর ৪৬ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮১ টাকা, ৩০ অক্টোবর ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ২১ হাজার ৮২০ টাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ১৮ হাজার ২৬৫ টাকা, ১৩ জুলাই ৪৬ কোটি ৯৩ লাখ ৩২ হাজার ৪৮৫ টাকা এবং ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি ৫৬ কোটি ৩২ লাখ ৩২ হাজার ২৩১ টাকা পাচার করেছে।