৪৬০ কোটি টাকায় এত সাফল্য!

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

মসিউর রহমান খান

ঢাকা মহানগরীর রাস্তা, ফুটপাত ও নর্দমা উন্নয়নের ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলের গতি বেড়েছে। মানুষজন হাঁটতে পারছে স্বচ্ছন্দে। নির্ভরতা কমেছে যানবাহনের ওপর। ফুটপাত প্রশস্ত হওয়ায় ব্যবহারকারী মানুষ বেড়েছে আরও তিন শতাংশ। ২০০৯ সালে রাজধানীতে ১ শতাংশ মানুষও ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করত না। এখন তা ব্যবহার করছে ৮৫ শতাংশ পথচারী।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলে ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প' বাস্তবায়নের পর 'অর্জিত সাফল্য' নিয়ে বিবরণে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া এই টাকায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, জিগাতলা, তেজগাঁও, খিলগাঁও, পুরান ঢাকা, মতিঝিল, কমলাপুর, ইস্কাটন, মগবাজার এলাকায় রাস্তা, ফুটপাত ও নর্দমা উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এসব এলাকার ফুটপাতের আয়তন বেড়েছে- এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। ফুটপাত দখলমুক্ত না করে শুধু টাইলস পরিবর্তন করে সাফল্য দাবি করা হাস্যকর। কারণ, বেশিরভাগ এলাকার ফুটপাত এখনও দখলমুক্ত করা হয়নি। এসব এলাকায় বেশিরভাগ পথচারী যানবাহনে ওঠার সুযোগ না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফুটপাতে চলেন। তা ছাড়া প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বলে ফুটপাত ব্যবহারকারী মানুষও এখানে বেশি। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার অভিবাসী ঢাকা শহরে আসছে।

সমকালের পক্ষ থেকে কয়েক দিনে এসব এলাকার ফুটপাত ঘুরে ফুটপাতের টাইলস পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোনো উন্নতি চোখে পড়েনি। বেশিরভাগ এলাকাতে দেখা গেছে, ফুটপাতে হকার ও নির্মাণসামগ্রী থাকায় মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্নেষকদের মতে, এই প্রকল্প রাষ্ট্রীয় অর্থ সম্পদ লুটের অন্যতম উদাহরণ হয়ে উঠেছে।


পুরো টাকাই জলে ঢালা হয়েছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও মনে করছে, এ প্রকল্পের সাফল্য বলতে কিছু নেই। ঋণের টাকায় অহেতুক পরামর্শকদের ফি দেওয়া হয়েছে, আর কর্মকর্তারা বিদেশ ঘুরে এ অর্থের অপচয় করেছেন। কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, 'এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজধানীতে বায়ুর মান বাড়ানো। বাস্তবে ঢাকার বায়ুমান মোটেই বাড়েনি; বরং কমেছে। প্রকল্পের মোট বরাদ্দের ৫০ শতাংশের বেশি খরচ করা হয়েছে নন মেটিরিয়ালস খাতে।'

এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে কেইস প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের সব কম্পোনেন্ট বিশ্বব্যাংক ও আইএমইডির পর্যবেক্ষণে কোয়ালিটি নিশ্চিত করে বাস্তবায়িত হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, মানুষের চলাচলের পথকে সুগম করা, বায়ুদূষণ কমানো এবং পথচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপার। বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব ড. এসএম মঞ্জুরুল হান্নান খান জানান, প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ৮০২ কোটি টাকা। কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে সেই হিসাব দিতে গিয়ে তিনি জানান, মেশিনারিজ খাতে মোট ব্যয়ের ২৫ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৭৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। কমিটি সভাপতি জানতে চান, এই ব্যয় দেশের প্রেক্ষাপটে স্ট্যান্ডার্ড কি-না? এর কোনো উত্তর মেলেনি। তবে সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী জানান, প্রকল্পের অন্যান্য খাতের ৭৫ শতাংশ ব্যয়ের মধ্যে ২৬ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণে।

কমিটির আরেক সদস্য রেজাউল করিম বাবলু বলেন, 'প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভিন্নমুখী হয়ে অন্যদিকে চলে গেছে। বায়ুদূষণ রোধে তেমন কিছুই করা হয়নি।'

২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে তিন ভাগে। এর মধ্যে এক ভাগ পরিবেশ অধিদপ্তর, এক ভাগ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং আরেক ভাগ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করেছে। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রকল্পের পরিবেশ অধিদপ্তরের অংশে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটিতে দেওয়া পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, এ প্রকল্পের ৮০২ কোটি টাকার মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) অংশে ব্যয় করা হয়েছে ৪৬০ কোটি টাকা। এ টাকায় যেসব কাজ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ৮৩ দশমিক ৯১ কিলোমিটার রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাতের উন্নয়ন; ২৩টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ; ১৮ কিলোমিটার মিডিয়ান-ফুটপাতে গার্ড রেইল স্থাপন; ২০টি যাত্রী ছাউনি ও ট্রাফিক সিগন্যাল সংবলিত ইন্টার সেকশনগুলোতে রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং, রোড সাইনের কাজ; ট্রাফিক বিভাগের কাছে ২১টি ইন্টার সেকশন ট্রাফিক সিগন্যাল রিমোট কন্ট্রোল হস্তান্তর; দক্ষিণ সিটির ২২ নম্বর ওয়ার্ডে বিজিবি সেকশন-সংলগ্ন হাজারীবাগে দুই তলা ওয়্যারহাউস-কাম অফিস ভবন নির্মাণ; ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে ২৫ ধরনের যন্ত্রপাতি সরবরাহ; এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবহার ও ট্রাফিক নিয়ম অনুসরণে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিন মাসব্যাপী টিভি ও রেডিওতে দুই হাজার ২৪টি বিজ্ঞাপন প্রচার।

সিটি করপোরেশন অংশে প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৪৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে সিভিল ওয়ার্কে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন ও উন্নয়নে। যদিও রাজধানীর কোথাও বর্তমানে ট্রাফিক সিগন্যাল অনুসরণে গাড়ি চলাচল করছে না। পুরোটাই ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তবে ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় ট্রাফিক সিগনাল কার্যকর রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ে এর পরের খাতে রয়েছে দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের ফি বাবদ ৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বেতন-ভাতায় ব্যয় হয়েছে তিন কোটি ৬২ লাখ টাকা। মিডিয়া ক্যাম্পেইনে দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রশিক্ষণে এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

মন্ত্রণালয়ের এ প্রতিবেদনে প্রকল্পের সাফল্য হিসেবে দাবি করা হয়েছে- রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, জিগাতলা, তেজগাঁও, খিলগাঁও, পুরান ঢাকা, মতিঝিল, কমলাপুর, ইস্কাটন, মগবাজার এলাকায় রাস্তা, ফুটপাত ও নর্দমার উন্নয়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে টাইলস স্থাপনসহ ফুটপাত প্রশস্ত করা হয়েছে। বাস্তবে ঢাকার কোথাও ফুটপাত বাড়ার তথ্য জানাতে পারেননি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্নিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উন্নয়নের ফলে পথচারীদের চলাচল সহজ ও সুগম হয়েছে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমেছে। ফলে বায়ুমানের উন্নয়ন হয়েছে। নর্দমা উন্নয়নের কাজের ফলে জলাবদ্ধতা কমেছে। প্রকল্পের আওতায় রাস্তাগুলোর উন্নয়ন হওয়ায় গাড়ি চলার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলের গতি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ঢাকার দুই সিটি এলাকায় ২৩টি স্থানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ২০টি স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের ফলে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে বাস থামানো, যাত্রী ওঠানামা করায় যান চলাচলের গতি বেড়েছে। ফলে যানবাহন থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি-সৃষ্ট ধোঁয়া কমেছে। এতে বায়ুমানের ক্ষতিকর প্রভাবও কমেছে।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য ডিএমপির সক্ষমতা বাড়াতে ৩২ ধরনের তিন হাজার ৭৩টি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে দেওয়া হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি ঢাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ ব্যবস্থাপনা মহানগরীর বায়ুমানের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তবে ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এআরআই) এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৈঠকে জানানো হয়, ঢাকার যান চলাচলের গতি ঘণ্টায় মাত্র ৫ কিলোমিটার। এর আগের বছর বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ঢাকায় যান চলাচলের গতি ঘণ্টায় মাত্র ৭ কিলোমিটার। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, প্রতিনিয়ত ঢাকার সড়কে যান চলাচলের গতি কমছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে এক হাজার ৩৩৭ দশমিক ৯১৩ কিলোমিটার সড়ক, ২২৩ দশমিক ০৪৯ কিলোমিটার ফুটপাত, এক হাজার ২০১ দশমিক ৫৬৫ কিলোমিটার ড্রেন, ৫৮ দশমিক ১১ কিলোমিটার রোড ডিভাইডার ও ৪৫টি ফুট ওভারব্রিজ রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৯৯৩ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সড়ক, ৯৬১ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার ড্রেন, যার মধ্যে খোলা পাইপ বসানো ৪৯৫ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার, ২১৭ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার ফুটপাত, ৩২টি ফুট ওভারব্রিজ, ৬০ দশমিক ২২৭ কিলোমিটার রোড ডিভাইডার রয়েছে। দুই সিটির কোথাও যাত্রী ছাউনির কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। আলোচিত কেইস প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ঢাকার ফুটপাত বেড়েছে অথবা সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে- এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিদিনের বায়ুমান সূচকে ২০১৪ সালের মার্চে ১৭৫ থাকলেও ২০১৯ সালের মার্চে দাঁড়ায় ১৩৬। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এই উন্নতি ঘটেছে বলে তারা দাবি করেছে। তবে ৫ নভেম্বর ঢাকার বায়ুমান সূচক ছিল ১৮৪। ৬ নভেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৫।

সংশ্নিষ্টদের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের এই সূচক জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। কারণ অধিদপ্তরের ব্যাকডেটেড তথ্য মানুষের জীবনযাপনে কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। অন্যদিকে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঢাকার বেশ কয়েকটি স্থানে একই ধরনের যন্ত্র বসানো হয়েছে। ওই যন্ত্র দিয়ে তারা প্রতি মিনিটের আপডেট তথ্য সরাসরি সম্প্রচার করছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বায়ুমানের সূচক ৫০ পর্যন্ত খুবই ভালো। ১০০ পর্যন্ত চলনসই। ১৫০ উঠলে কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য তা অস্বাস্থ্যকর। ২০০ উঠলে পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর। ৩শতে উঠলে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর (জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির পরিস্থিতি) এবং ৩শ' পার হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায়ও ৬ নভেম্বরের পরের আর কোনো হালানাগাদ তথ্য পরিবেশ অধিদপ্তরে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ৮ নভেম্বর বিকেল ৫টায় ঢাকার বায়ুমানের সূচক দেখানো হয়েছে ১৭০।

কেইস প্রকল্পের সিটি করপোরেশন অংশের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম মনে করেন, বড় পরিসরে এ প্রকল্প নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বায়ুমানের উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে না। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের অধীনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ফুটপাত উন্নয়ন ও স্যুয়ারেজ লাইন সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজের ফলে ঢাকা শহর এখনও সচল আছে। না হলে স্থবির হয়ে পড়ত।