তিন-চার বছরের মধ্যে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১১ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সারাদেশে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। সোমবার সংসদের বৈঠকে বিএনপিদলীয় সদস্য হারুনুর রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বিকেল সোয়া ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। একই প্রশ্নের উত্তরে বিদুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ৫০ বছর লেগেছে। বাংলাদেশের এত সময় লাগবে না। তিনি বলেন, সরকার কখনোই বলেনি- সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেছে। তবে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ইডকলের অর্থায়ন ও টিআর/কাবিটা প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের গ্রাহক ৬০ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে ইডকলের নিজস্ব অর্থায়নে ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯১, টিআর/কাবিটা প্রকল্পের অধীনে ইডকল স্থাপিত গ্রাহক ১১ লাখ ২৭ হাজার ১৫৮ এবং অন্যান্য সংস্থার স্থাপিত গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখ ৪৫ হাজার ১৫৪।

মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৫১০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। সারাদেশে অফগ্রিড এলাকায় স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের সংখ্যা ৫০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯টি। বগুড়া-৬ আসনের গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে ১০ বছরে ৬বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।

এই সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে (২০০৯-১৯) এ পর্যন্ত গৃহস্থালি, বিদ্যুৎ ও সার খাতে ৪ বার, শিল্প, ক্যাপটিভ পাওয়ার, চা ও বাণিজ্যিক খাতে ৫ বার এবং সিএনজি খাতে ৬ বার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সব শ্রেণির গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের আবদুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, ছয়টি গ্যাস কোম্পানির আওতায় বর্তমানে ৪২ লাখ ৯০ হাজার গৃহস্থালি সংযোগ রয়েছে। অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত তিতাস ও কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির আওতায় দুই লাখ ৬০ হাজার ৪৮৬টি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। এ হিসাবে আবাসিকের ৬ শতাংশ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের আওতায় এসেছে।

ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আবাসিক এলাকায় গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারে গ্যাস সংযোগ প্রদানের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আপাতত নেই। প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার ও বিকল্প জ্বালানি সহজলভ্য হওয়ায় আবাসিকে গ্যাস সংযোগ স্থগিত আছে। বর্তমানে বাসাবাড়িতে পাইপলাইন গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

ঢাকা-২০ আসনের বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ক্যাপটিভ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। গ্রিডভিত্তিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৯ হাজার ৪২৮ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি খাতে ৯ হাজার ৭৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৪টি ও বেসরকারি খাতে ৮ হাজার ৫২৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৮২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

মেহেরপুর-২ আসনের মোহাম্মদ সহিদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশের বাইরে ভারত, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান সম্প্র্রচার হচ্ছে। এ ছাড়া আইপিটিভির মাধ্যমে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই বিটিভি দেখার সুযোগ রয়েছে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের আহসানুল ইসলামের (টিটো) প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৪৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণ সম্প্রচারে আছে ৩০টি। এ ছাড়া ১১টি সম্প্রচারের অপেক্ষায় এবং ৩টি ফ্রিকোয়েন্সি পায়নি।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, অপেক্ষায় থাকা টিভি চ্যানেলগুলো হলো- আবদুল্লাহ আল মামুন কৌশিকের চ্যানেল ২১, নুর মোহাম্মদের উৎসব, মোহাম্মদ সাইফুল আলমের রংধনু, ধানাদ ইসলাম দীপ্তের তিতাস, তানভির আবিরের খেলা টিভি, জিনাত চৌধুরীর আমার টিভি, মামুনুর রশীদ কিরণের গ্লোবাল টিভি, মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সিটিজেন টিভি, তানজিয়া সিরাজের প্রাইম টিভি, শীলা ইসলামের স্পাইস টিভি ও আবুল বাশার মোহাম্মদ রকিবুল বাসেতের টিভি টুডে।

ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ জানান, সম্প্রচার আইন ২০১৮ (খসড়া) মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছে। ভেটিংয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ আইনের আওতায় সম্প্রচার কমিশন গঠন হলে সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমের সম্প্রচার নিবিড়ভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে।

বরিশাল-২ আসনের শাহে আলমের প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানান, বিদ্যমান ৭৬টি শিল্পনগরীতে পাঁচ হাজার ৮৮৩টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ১০ হাজার ১৩৯টি শিল্প প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬০টি মালিকানা দ্বন্দ্ব, ব্যবস্থাপনা বিপণন সমস্যা, আর্থিক সংকট, মামলা ইত্যাদি কারণে বন্ধ বা রুগ্ন অবস্থায় আছে।