প্রশ্ন ফাঁস: গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীসহ আটক ১২

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০১৯      

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে আটকের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থী রয়েছেন।

আটকরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রনি খান, আইন বিভাগের মানিক মজুমদার, অমিত গাইন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের নেয়ামুল ইসলাম, নয়ন খান, মমিনুল হক এবং মুরছালিন হক। এ ছাড়া আটক ৫ পরীক্ষার্থী হলেন- শেরপুর জেলার মো. সোলাইমান, মাহফুজ আজাদ কাউসার, বরিশালের তরিকুল ইসলাম সৈকত, সাগর আহমেদ এবং চুয়াডাঙ্গার আবির হাসান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ চক্রের মূল হোতা হিসেবে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী বাবুল শিকদার বাবুর নাম উঠে এসেছে। তবে পুলিশের সহায়তায় অনেক চেষ্টা করেও তাকে ধরা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান জানান, ৩ লাখ টাকার চুক্তিতে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের 'এ' ইউনিটে ভর্তির পরিকল্পনা করছিল চক্রটি। বিষয়টি জানতে পেরে বিজয় দিবস হলের ৫১২ নম্বর কক্ষ থেকে চক্রের তিন সদস্য এবং পাঁচ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই চক্রের আরও চার সদস্যকে আটক করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ চক্রের উদ্দেশ্য ছিল প্রতারণার মাধ্যমে ওই পরীক্ষার্থীদের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার বলেন, এ চক্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম এসেছে। তাদের ব্যাপারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার জন্য একটি চক্র নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তবে অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১২ জনকে সোপর্দ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।