সাংবাদিক শিমুল হত্যা: হাইকোর্টে মিরুর জামিন

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের সমকালের সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত মেয়র হালিমুল হক মিরুকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এক জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি ভীস্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই জামিন মঞ্জুর করেন।

পাশাপাশি হালিমুল হক মিরুকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্নিষ্ঠদের প্রতি রুল জারি করেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

উচ্চ আদালত থেকে মিরুর জামিন হয়েছে-শাহজাদপুরে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মামলার বাদী সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

নুরুন্নাহার খাতুন সমকালকে বলেন, দুই ছেলে-মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। মেয়র জেলখানা থেকে বের হয়ে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হবে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্ঠ বেঞ্চের আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুর রহমান চৌধুরী টিকু।

তিনি সমকালকে বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। একজন জনপ্রতিনিধির হাতে থাকা অস্ত্রের গুলিতে সাংবাদিক শিমুল মারা গেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিষয়টি জানানোর পরেও মামলার প্রধান আসামিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ইতিমধ্যে নোট পাঠানো হয়েছে।

আদালতে আসামি মিরুর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুল আলিম মিয়া জুয়েল। রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধীতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চৌধুরী টিকু।

এর আগে একাধিক বেঞ্চ মিরুর জামিন আবেদন খারিজ করেন। সর্বশেষ গত বছর ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। পরবর্তীতে জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল করা হলে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের আগে জামিন আবেদন না করার নির্দেশনা দেন। সেই ধারাবাহিকতায় ৬ মাস অতিক্রান্তের পর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন আসামি।

বর্তমানে শিমুল হত্যা মামলাটি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। গত ৭ নভেম্বর এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলার চার্জ গঠনের জন্য আগামী ২১ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বিজয় মাহমুদকে অপহরণের পর মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়িতে আটকে রেখে তার দুই সহোদরের মারপিটের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হয়। ওই সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী লীগ নেতা মেয়র মিরুর হাতে থাকা রাইফেল থেকে ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পরদিন হাসপাতালে মারা যান সাংবাদিক শিমুল।

এ ঘটনায় মিরু ও তার সহোদর হাবিবুল হক মিন্টুসহ ৪০ জনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন নিহত শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন। মামলা দায়েরের ৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২ মে শাহজাদপুর আমলি আদালতে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।

চার্জশিটে বলা হয়, মেয়র মিরুর গুলিতেই শিমুলের মৃত্যু হয়েছে। আসামিপক্ষের নানা ধরনের টালবাহানার কারণে চার্জগঠন বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে বাদীপক্ষ দাবি করছেন।