ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের 'সি টু সোর্স: গঙ্গা'র অভিযান বাংলাদেশ-ভারতে

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯   

অনলাইন ডেস্ক

গত অক্টোবরের শেষ দিকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ফেলো জেনা জ্যামবেক এবং হিথার কোল্ডেওয়ের যৌথ নেতৃত্বে বৈজ্ঞানিক এবং প্রকৌশলীদের নিয়ে গঠিত একটি দল পদ্মা নদীতে দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী একটি অভিযান শুরু করে। এ সময় তারা পদ্মা নদীর বঙ্গোপসাগর থেকে হিমালয় পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ৫৭৫ কিলোমিটার অংশে অভিযান পরিচালনা করে।

পদ্মা নদীর বাংলাদেশ এবং ভারতীয় অংশে পরিচালিত এই অভিযানটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের 'সি টু সোর্স' অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়, যার মাধ্যমে এই নদীতে বর্ষা পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিক দূষণের কার্যক্রমগুলোর সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্যগুলো শনাক্ত করা হবে।

'সি টু সোর্স: গঙ্গা' অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিকভাবে বিশেষজ্ঞ সম্প্রদায় যেন প্লাস্টিক দূষণের মতো সার্বজনীন এই সমস্যার সমাধানে একযোগে কাজ করে। অভিযান চলাকালীন সময়ে, এই দলটি নদী এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বর্ষা পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিক দূষণের মাত্রা পরিমাপ করবে। এছাড়াও এ সময়ে তারা কিছু মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু কর্মশালা পরিচালনা করবে।

এভাবে তারা যে তথ্য সংগ্রহ করবে তা ব্যবহার করে সমাধানের পথ জানাতে এবং জ্ঞানের ঘাটতি পূরণের জন্য আঞ্চলিক ও জাতীয় অংশীদারদের সাথেও কাজ করবে যা দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

উইল্ডলাইফ  ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া (ডাব্লিউআইআই), ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলোজি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি, উইল্ড টিম ও ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালানোর মূল লক্ষ্য হলো প্লাস্টিকের বর্জ্য কিভাবে উৎস থেকে সমুদ্রে যায় তা লিপিবদ্ধ করা এবং প্লাস্টিকের প্রবাহ এবং গঠন সম্পর্কে যে জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে তা পূরণ করা। ভারতে টাটা ট্রাস্টও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের ফেলো, অনুসন্ধানকারী, 'সি টু সোর্স: গঙ্গা' অভিযানের বৈজ্ঞানিক দলের উপনেতা হিথার কোল্ডেওয়ে বলেন, 'সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। প্রতি বছর ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক নদীর সাথে যুক্ত হয়, যা বর্জ্য পদার্থগুলোকে সমুদ্রে নিয়ে যেতে পরিবাহক বেল্ট হিসেবে কাজ করে। আমাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো জনগণ এবং প্লাস্টিক কিভাবে পদ্মা নদী এবং সমুদ্রের সাথে সংযুক্ত তা বোঝা এবং আমাদেও তথ্য ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরি এবং এর সমাধানের পথ বের করা।'

নদী অভিযানের প্রথম পর্যায় চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই অভিযানের সময় দলটি প্লাস্টিক দূষণের সমাধান সম্পর্কে নয়টি কর্মশালা পরিচালিত হয়। এছাড়াও তারা প্লাস্টিক সম্পর্কিত ধারণা এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে ২৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে এবং পরিবেশ থেকে ৩০০ এর বেশি নমুনা সংগ্রহ করে। মেরিন ডেব্রিস ট্রাকার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ৫৬ হাজারেরও বেশি বর্জ্য পদার্থের টুকরাকে লিপিবদ্ধ করে। তারা স্থল ও পানিতে ৩ হাজার কাঠের পচনশীল 'ড্রিফট কার্ড' এবং ১০টি 'বোতল ট্যাগ' ব্যবহার করে প্লাস্টিক বর্জ্যরে গতিবিধি লক্ষ্য করে।

দলটির অভিযানের সকল অভিজ্ঞতা তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য ওয়েবে NatGeo.org/plastic অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুইটার এবং ইন্সটাগ্রামে ExpeditionPlastic এই হ্যাশ ট্যাগটি ব্যবহার করে ফলো করতে হবে। 'প্লানেট অথবা প্লাস্টিক?' কে সমর্থন জানাতে, একবার ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর জন্য আজই অঙ্গীকার বদ্ধ হতে: natgeo.com/plasticpledge

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি সম্পর্কে:

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি একটি বৈশ্বিক অলাভজনক সংস্থা, যা বিজ্ঞান, অনুসন্ধান এবং শিক্ষা এবং গল্প কথনের মাধ্যমে পৃথিবীর আশ্চর্যজনক বস্তুগুলোকে রক্ষা করে। ১৮৮৮ সাল থেকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অনুসন্ধানের বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করে এবং তারা পরিবর্তনে সহায়ক ধারণা এবং সাহসী মানুষের ওপর বিনিয়োগও করে থাকে।

এ সংস্থাটি সাতটি মহাদেশে কাজের জন্য ১৪,০০০ এরও বেশি অনুদান দিয়েছে এবং প্রতিবছর শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে তিন মিলিয়ন শিক্ষার্থীদের কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়াও স্বাক্ষর অভিজ্ঞতা, গল্প এবং কন্টেন্টের ওপর ভিত্তি করে সংস্থাটি দর্শকদেরকেও সম্পৃক্ত করে থাকে। এ সম্পর্কে আরও জানতে ভিজিট করুন: https://www.nationalgeographic.org/অথবা ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এবং ফেসবুকে ফলো করুন। 

বিষয় : বাংলাদেশ