লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড

গুজব ছড়াল কারা

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাহাদাত হোসেন পরশ, মিরাজ শামস ও বকুল আহমেদ

দাম বৃদ্ধির গুজবে নারায়ণগঞ্জের পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জে মঙ্গলবার লবণের কেনাবেচা ছিল ব্যাপক - মেহেদী হাসান সজীব

লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে, প্রতি কেজি দুইশ' টাকা ছাড়াচ্ছে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন গুজব ছড়ানোর পর এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর সারাদেশে চলে লঙ্কাকাণ্ড। গুজবে কান দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় করে লোকজন। পেঁয়াজের মতো দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেককে বাড়তি লবণ কিনতে দেখা যায়। এই সুযোগে কোথাও কোথাও প্রতি কেজি ৩৫ টাকার বেশি বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা হাতিয়ে নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে লবণ নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। তাদের মতে, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কোনো মহল ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর দাম নিয়ে গুজব ছড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে চাচ্ছে। দেশের কোথাও লবণের বিন্দু পরিমাণ সংকট না থাকলেও পেঁয়াজের ভূত লবণের ওপর চাপাতে চায় কেউ কেউ। পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় আরেকটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি যারা ঘোলাটে করতে চায়, তাদের শনাক্ত করতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সমকালকে বলেন, লবণের সংকট নিয়ে যা ছড়ানো হচ্ছে, তা মহাগুজব। যারা এই গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী গুজবের সুযোগ নিচ্ছে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, লবণের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

শিল্প সচিব আবদুল হালিম বলেন, এখন লবণের মৌসুম থাকায় পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পাশাপাশি উৎপাদনও চলছে। দেশে এখন সাড়ে ছয় লাখ টন মজুদ আছে। বড় কোম্পানির কাছে আরও মজুদ আছে। দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা এক লাখ টনের সামান্য বেশি। এখনও চাহিদার চেয়ে ৬ গুণের বেশি হাতে আছে। উল্টো ব্যবসায়ীরা লবণ বিক্রি করতে পারছেন না। তাই বিক্রিতে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ সমকালকে বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার পরপরই কেন, কারা লবণের দাম নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে, তা খুঁজে বের করা হবে। এটা কোনো সিন্ডিকেটের কারসাজি হলে অবশ্যই তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের ডিসি আ ফ ম আল কিবরিয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা লবণ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে, তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিক টিম কাজ করছে।

চলমান পরিস্থিতিতে শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক, তথ্য অধিদপ্তর, পুলিশ সদরদপ্তর তথ্য বিবরণী দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লবণের প্রচুর মজুদ রয়েছে। গুজব ছড়িয়ে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্যাকেটের গায়ের মূল্যের চেয়ে বেশি বিক্রি করা ভোক্তা অধিকার আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে মজুদ থাকা ভোজ্য লবণের মধ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের চাষিদের কাছে চার লাখ পাঁচ হাজার টন এবং বিভিন্ন লবণ মিলের গুদামে দুই লাখ ৪৫ হাজার টন মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে।

লবণের দাম বৃদ্ধি ও মজুদ সংকটের গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ অতিমুনাফা করতে না পারে, সেজন্য রাজধানীসহ সারাদেশেই মাঠে রয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জনসাধারণকে সচেতন করতে অনেক এলাকায় মাইকিং করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে দাম বৃদ্ধি ও সংকট সৃষ্টির ঘটনায় গতকাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫৭ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জন গ্রেপ্তার ও ৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গতকাল রাতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৯ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার ও চারজনকে জরিমানা করেছে। বেশি দামে বিক্রি করায় পুরান ঢাকার নবাবগঞ্জে চার ব্যবসায়ীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঢাকার দোহারে তিন দোকানি আটক ও ১৭ দোকান থেকে জরিমানা আদায় ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলায় ৪০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, ২৫ জন গ্রেপ্তার ও ৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তথ্য অধিদপ্তরের প্রেসনোটে বলা হয়েছে, লবণ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে দেশে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। এতে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লবণ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফলে কোনো দোকানি বাড়তি দাম হাঁকালে জাতীয় জরুরি নম্বর '৯৯৯'-এ কল করে পুলিশকে জানাতে বলা হয়।

ডিএমপির এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, লবণ নিয়ে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা না দেয়, সে ব্যাপারে গতকালই ঢাকার ৫০ থানার ওসিকে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি-না, তা খুঁজে বের করতে দোকানে দোকানে গিয়ে তদারক করতে বলা হয়। এমন নির্দেশনার পর পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন দোকান ও সুপারশপে গিয়ে লবণের মজুদ ও দামের ব্যাপারে খোঁজ নেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। তবে এত কড়াকড়ির মধ্যেও গতকাল মার্কেট বন্ধের দিনে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও নিউমার্কেট এলাকায় এই পণ্যটি বিক্রি করতে দেখা যায়।

এদিকে, গুজবের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে সরব দেখা গেছে। লবণের কোনো সংকট নেই এবং দাম বাড়বে না- এমন বার্তা জানিয়ে তারা স্ট্যাটাস দেন ফেসবুকে। গতকাল স্বপ্ন রোজ নামে তরুণী লিখেছেন, 'আপনি সব সময় লবণ কেনেন এক কেজি। এখন কিনছেন ৫/১০ কেজি। দাম তো আপনিই বাড়াচ্ছেন!' এস এম আজাদ নামে যুবক লিখেছেন, 'সাবধান, লবণের দাম বাড়েনি। গুজব ছড়ানোয় কয়েকজন আটক।' নুহু আবদুল্লাহ নামে যুবক লিখেছেন, 'লবণের জন্য শেওড়াপাড়ার রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে মানুষ! আম্মা মেয়ের স্কুল থেকে ফোনে কল করে বললেন, লবণের কেজি ১০০ টাকা করে যাচ্ছে। লবণ কিনে নে জলদি। আমি তখনই বের হলাম। সামনের দোকানদার বললেন, লবণ শেষ হয়ে গেছে! তার পরের দোকানেও লবণ নেই! তার পরের দোকানেও নেই! রিকশায় গেলাম স্বপ্ন সুপারশপে! সেখানে দেখি লবণের তাক-এ ১০ শতাংশ ছাড় স্টিকার লাগানো। আমার আগে আরও তিনজন লবণ নিয়েছেন; প্রত্যেকে ছয় প্যাকেট করে। তাড়াতাড়ি ছয় প্যাকেট নিলাম।'

রাজধানীতে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল এক কেজি লবণ ৪০ থেকে ১৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেছেন দোকানিরা। অনেক জায়গায় লবণ ফুরিয়ে যাওয়ায় কিনতে গিয়ে ফেরত আসেন লোকজন। এতে গুজব আরও ডালপালা ছড়ায়। সবাই বাড়তি লবণ কেনার চেষ্টা করলে দাম ঊর্ধ্বমুখী রূপ নেয়। অথচ লবণ উৎপাদনকারী কোনো কোম্পানি এক পয়সাও দাম বাড়ায়নি। এসব কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। প্রয়োজনে আরও কয়েক গুণ সরবরাহ বাড়ানো হবে। চাষিরা আগের মৌসুমের লবণ বিক্রি শেষ করা নিয়েই বিপাকে আছেন।

সারাদেশ থেকে সমকালের প্রতিনিধিরা জানান, গতকাল সকাল থেকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাজারে লবণ কিনতে ভিড় করে মানুষ। বিকেলে বেশিরভাগ বাজারে লবণ শেষ হয়ে যায়। রাজধানীতে দুপুরের দিকে গুজব তীব্র আকার ধারণ করে। অনেক ক্রেতা ৫ থেকে ১০ কেজি করে লবণ কেনেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি বড় দোকানে ১০০ থেকে দেড়শ' কেজির বেশি লবণ মজুদ রাখা হয়। চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দেন দোকানিরা।

শান্তিনগর বাজারের আলম স্টোরের বিক্রেতা সাইফুদ্দিন জানান, চাহিদা বাড়লেও মোটা লবণ ২৫ টাকা ও চিকন লবণ ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। এই বাজারের কুদ্দুস স্টোরের বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন বলেন, এসিআইর পিওর ব্র্যান্ডের ২৫ কেজি লবণ ছিল। পাঁচ ক্রেতার কাছে ৩৫ টাকা দরে পাঁচ কেজি করে সব লবণ বিক্রি করে দিয়েছি। অফিস ছুটির পর বিকেলে লবণ কিনতে ক্রেতার ভিড় আরও বেড়ে যায়। এতে দোকানিরা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন।

গতকাল সকালে ৩৫ টাকায় এক কেজি লবণ কিনে বাসায় ফেরেন বলে সমকালকে জানান শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা জান্নাত আরা লাজু। দুপুরের পরে এক প্রতিবেশী তাকে ১৬০ টাকা কেজিতে লবণ কিনে আনার খবর জানান। দাম বৃদ্ধির খবর পেয়ে একই দোকানে তিনি গিয়ে আর লবণ পাননি।

রাজধানীর হাজারীবাগের আমানউল্লাহ স্টোরের ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি লবণ বিক্রি করেন। এ জন্য দোকানে ১০০ কেজি লবণ মজুদ সব সময় ছিল। গতকাল দুপুরের আগেই সব লবণ বিক্রি গেছে বলে সমকালকে জানান এই দোকানি। মিরপুর-১নং বাজার, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট, মগবাজার, ফকিরাপুলসহ রাজধানীর সব বাজারেই লবণ বিক্রির হিড়িক পড়ে। এসব এলাকার দোকানগুলোতেও লবণ ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

বাজারের বড় অংশ লবণ সরবরাহ করে এসিআই গ্রুপ। এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এসিআই সল্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আলমগীর সমকালকে বলেছেন, তাদের কোম্পানি থেকে দামে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। মৌসুমের এই সময়ে দাম বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনাও নেই। এখন পর্যাপ্ত লবণ মজুদ ও সরবরাহ আছে। তিনি বলেন, কোনো বাজারে লবণ না থাকলে তাদের কাছে চাইলে জরুরি ভিত্তিতে ট্রাকে লবণ সরবরাহ করা হবে।

মেঘনা গ্রুপের (এফএমসিজি) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ ইকবাল সমকালকে বলেন, ফ্রেশ ব্র্যান্ড গড়ে প্রতি মাসে যে পরিমাণ বিক্রি করে, তার দ্বিগুণের বেশি লবণ মিলে আছে। এই লবণ দিয়ে ক্রেতাদের আগামী দুই মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তাদের ব্র্যান্ডের লবণের দাম বাড়েনি। পূবালী সল্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিতোষ সাহা বলেন, নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি লবণ মিল রয়েছে। এখানের কোনো মিলে লবণের ঘাটতি নেই।

লবণ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানায়, এখন লবণের উৎপাদন মৌসুম চলছে। গত মৌসুমেও ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে। গত মৌসুমে ১৮ লাখ টনের বেশি উৎপাদন করে রেকর্ড অর্জন করে। বছরে ভোজ্য ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণের চাহিদা ১৬ লাখ টনের বেশি। এ কারণে এবার মৌসুম শুরুর আগে যথেষ্ট উদ্বৃত্ত ছিল। গত ১৯ দিন দেশে প্রচুর লবণ উৎপাদনও হয়েছে।

এর আগেও নানা বিষয় নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রী ধর্ষণ, ছাত্র হত্যা, চোখ উপড়ে ফেলা এবং পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগার গুজব ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে প্রমাণিত হয়, সবই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের গুজব।