ক্যাসিনোকাণ্ড: ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থেকে এবং অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঠিকাদার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহারে মেসার্স শফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ৪১ লাখ ১৮ হাজার ১৩২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থসম্পদ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এর আগে জি কে বিল্ডার্সের মালিক ও নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করা ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এবার আরেক ঠিকাদারকে আইনের আওতায় আনা হলো।

জানা গেছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেআইনি ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এর আগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের কাছে এই দুর্নীতিবাজদের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। ক্যাসিনোকাণ্ডে দুর্নীতির অনুসন্ধান তদারক করেছেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

এজাহারে বলা হয়, আসামি শফিকুল ইসলাম সর্বশেষ ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত তার আয়কর নথিতে মোট ৭ কোটি ১২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৪ টাকার স্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেছেন। তার দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রদর্শিত সম্পদের মূল্য আরও অনেক বেশি। মামলা তদন্তকালে ওইসব সম্পদের মূল্য পুনরায় নিরূপণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হবে।

একই করবর্ষের নথিতে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ১৮৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসার মূলধন হিসেবে ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭২৫ টাকা, গাড়ি ক্রয় বাবদ ২৬ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা ও ব্যবসাবহির্ভূত ৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৩ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে শফিকুল ইসলাম অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি ১৪ কোটি ৪১ লাখ ১৮ হাজার ১৩২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে নিজের ভোগদখলে রেখে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।