এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চায় মিলগুলো

বুধবার বৈঠক ডেকেছে ট্যারিফ কমিশন

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শীত শুরুর আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চায় পরিশোধনকারী মিলগুলো। সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলো সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বুধবার মিল মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন।

একই দিন লবণের মজুদ ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা বৈঠক করবে সংস্থাটি। সম্প্রতি গুজব ছড়িয়ে লবণের দাম বাড়ায় একটি চক্র।

পেঁয়াজের দাম নিয়ে ভোক্তারা যখন নাকাল, তখন অনেকটা নীরবে দাম বেড়েছে ভোজ্যতেলের। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিগুলো না বাড়ালেও গত এক মাসে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকার মতো। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে অপেক্ষাকৃত কম আয়ের মানুষের ভোজ্যতেল পাম অয়েলের। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশেরও বেশি। এখন দাম বাড়াতে চাইছে কোম্পানিগুলো।

অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন অনুযায়ী, ভোজ্যতেলের বাজার মূল্য নির্ধারণ করে দেয় সরকার। মিলগুলোর দাম বাড়ানো প্রয়োজন হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাশে ট্যারিফ কমিশনের কাছে আবেদন করে। ট্যারিফ কমিশন তাদের আবেদনের যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই করে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন মনে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন করার পর মিলগুলো সে অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে। একই বিধান চিনি ও লবণের ক্ষেত্রেও।

ট্যারিফ কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, ছয়টি ভোজ্যতেল কোম্পানি দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে আগামী বুধবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে তেলের আমদানি মূল্য, অন্যান্য খরচ বিশ্নেষণ করে তাদের আবেদনের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা হবে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, রোববার ঢাকার বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। গত ২৪ অক্টোবর তা বিক্রি হয়েছে ৭৭ থেকে ৮৫ টাকা। গত ২৪ অক্টোবর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজার দর ছিল ৯৫ থেকে ১১০ টাকা, এক মাস পর রোববার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

টিসিবির হিসাবে, ঠিক এক মাস আগে প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েলের দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। রোববার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ থেকে ৬৭ টাকায়। আর গত মাসের ২৪ অক্টোবর প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েলের দাম ছিল ৬২ থেকে ৭০ টাকা, রোববার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ থেকে ৭৪ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, গত বাজেট ঘোষণার পর থেকেই ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো কর-ভ্যাটের হিসাব তুলে ধরে দাম বাড়ানোর জন্য ট্যারিফ কমিশনের কাছে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফ কমিশন লিটারে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাবও পাঠিয়েছিল মন্ত্রণালয়ে। তবে মন্ত্রণালয় তাতে সম্মতি দেয়নি।

ট্যারিফ কমিশনের সংশ্নিষ্টরা জানান, দেশে লবণের উৎপাদন, চাহিদা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী বুধবার আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে ভোজ্য লবণের পাশাপাশি শিল্প লবণের চাহিদা ও আমদানি পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে।