ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সংকট কিছুটা কম বিজ্ঞানের হলগুলোতে

গণরুমের দিনরাত্রি-৩

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাব্বির নেওয়াজ ও ইমাদ উদ্দিন মারুফ

আবাসন সংকট থাকলেও গণরুমের পরিচিত চিত্র নেই বললেই চলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক হলগুলোতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক মুসলিম হল এবং একুশে হলকে বিজ্ঞান অনুষদের হল ধরা হয়। এগুলোয় গণরুমের সমস্যা থাকলেও প্রশাসনের নজরদারির কারণে এবং রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের খবরদারিত্ব তত কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ ছাত্রদের বেদনাদায়ক কোনো অভিজ্ঞতার শিকার হতে হচ্ছে না।

সরেজমিন কার্জন হল এলাকার এ তিনটি হলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে বেশ কিছু  শিক্ষার্থী গণরুমে উঠেছেন। তাদের একাংশ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরলেও বেশির ভাগই সন্তুষ্টির কথা জানান। কেউ কেউ সমস্যার কথা বললেও অন্য হলের তুলনায় ভালো আছেন বলে জানান।

সরেজমিন দেখা গেছে, অমর একুশে হলে গণরুম বিলুপ্ত করা হয়েছে। হল প্রশাসন ও হল সংসদের উদ্যোগে বহিরাগত ও অছাত্রদের রুমে বৈধ শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও এ প্রসঙ্গে একই মন্তব্য করেন।

একুশে হলের ছাত্র মাসুম রানা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে পড়েন। তিনি সমকালকে বলেন, 'এটি সৌভাগ্য যে, একুশে হলে এখন কোনো গণরুম নেই। প্রভোস্ট স্যার গণরুমকে বিলুপ্ত করেছেন। হল সংসদ এবং হল ছাত্রলীগও এতে সহযোগিতা করেছে। প্রথম যখন হলে উঠি, তখন একটি রুমে ৪০ জনের মতো থাকতাম। এখন ১৩ জনের মতো থাকি।'

ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্র ফাহিম আশরাফ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, 'প্রথমে এক রেফারেন্সে হলে উঠেছিলাম। থাকতে একটু সমস্যা হয়েছিল। এখন ভালো একটি রুমে আছি। তবে কয়েকদিন গণরুমে থাকায় বন্ধুদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।' তিনি বলেন, 'সিট বণ্টনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রশাসন নিলে কোনো আবাসন সমস্যাই থাকবে না। তাহলে যাদের ছাত্রত্ব নেই, তারা হল ছাড়তে বাধ্য হবে এবং সেখানে নবীন শিক্ষার্থীরা উঠতে পারবে।'

একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'এই হলে কোনো সিট সংকট নেই। সব ছেলেই বিছানায় ঘুমায়। আগে তিনটি গণরুম ছিল। সেগুলোতে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ঘুমাত। আমি তাদের বুঝাই, গণরুম তাদের জন্য নয়। যেসব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ, তাদেরও বুঝাই। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও তাদের সঙ্গে কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করি- কেননা প্রয়োজন তো তাদেরই বেশি। এর পর অনেক পুরোনো শিক্ষার্থীই সিট ছেড়ে দিয়েছে। এতে সিট সংকট অনেক কমেছে।'

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট দূর করতে হলে দ্বিতল বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব রুমের উচ্চতা বেশি, সেখানে তিনতলা বিশিষ্ট বেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।' তিনি বলেন, 'যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে, তাদের হল ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। হাউস টিউটরদের মাধ্যমে মৌখিকভাবে হল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এভাবে খালি হওয়া সিটগুলোর ৪০ শতাংশই পাবেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। শহীদুল্লাহ হলের বর্ধিত ভবন দুটির অবস্থা জরাজীর্ণ। সেখানে ১৫তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটি নির্মিত হলে আবাসন সমস্যার সমাধান হবে আশা করি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, 'গণরুমের মতো বিষয়গুলো একসময় হয়তো থাকবে না।'