দূর হবে ১৮০০ কি.মি. নৌপথের নাব্য সংকট

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বন্যা ও পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে ছোট-বড় নদীনালা, খাল-ডোবা ড্রেজিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় চার হাজার ৪০৮৭ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এ পরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের দুটি সিটি করপোরেশন, ৩৭৫ উপজেলার ৮৮টি ছোট নদী, ৩৫২টি খাল এবং আটটি ডোবা ড্রেজিং করা হবে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় ১ হাজার ৮০০ কি.মি. নৌপথের নাব্য সংকট দূর হবে, পানির ধারণ ক্ষমতা এবং নিষ্কাশন ক্ষমতাও বাড়বে। ফলে নৌ-চলাচল ও যোগাযোগ সহজ হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি চাষাবাদ করা যাবে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে। প্রতিবছর কমপক্ষে তিন লাখ ৫০ হাজার টন ফসল উৎপাদন বাড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে দুর্নীতি-অনিয়ম না হয়, সে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।

এ প্রসঙ্গে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম সমকালকে বলেন, পানিসম্পদের সমন্বিত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ডেল্টা প্ল্যান-২০২১ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ১০ বছরে এক হাজার ৩৬৭ কি.মি. নদী পুনর্খনন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নতুন করে আবারও চার হাজার ৮৭ কি.মি. জুড়ে ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম শেষ হলে দেশের নদনদীর নাব্য সংকট কাটবে এবং পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের ক্ষমতা বাড়বে। তা ছাড়া নদীভাঙনের ঝুঁকিও কমবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানাচ্ছে, দেশের পানিসম্পদের সমন্বিত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প নিতে ও বাস্তবায়নের স্বার্থে নদীপ্রবাহকে সাতটি বেসিনে ভাগ করে বেসিনভিক্তিক সমীক্ষা কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিস্তা বেসিনের সমীক্ষা শেষও হয়েছে। কর্ণফুলী বেসিন ও সাঙ্গু-মাতামুহুরী নদী বেসিনে সমীক্ষার জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সমীক্ষাধীন রয়েছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বেসিন। মেঘনা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বেসিনের সমীক্ষার জন্য একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামীতে আরও পাঁচ হাজার ৫০০টি ছোট নদী ড্রেজিং কার্যক্রমের আওতায় আসবে। এ ছাড়া ডেল্টা প্ল্যানভুক্ত দ্বিতীয় প্রকল্প বাঙালি-করতোয়া-ফুলজোড়-হুরাসাগর নদী সিস্টেমের ড্রেজিং কাজ দ্রুত শুরু হবে।

এদিকে দ্রুত খনন শেষ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি ড্রেজার এবং ১৩টি এক্সক্যাভেটর কেনা হয়েছে। টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার জন্য আরও ৩৫টি ড্রেজার কিনতে নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় নদীগুলোর নাব্য ও ধারণক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ২৪টি নদনদীর ড্রেজিং বিষয়ে সমীক্ষা শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে পাউবো, বিআইডব্লিউটিএ এবং এলজিইডি সমন্বিতভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া নদনদীগুলোর ড্রেজিংয়ে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ এ পানিসম্পদ খাত এবং এর ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য দেশের নদনদী, খালবিল পুনর্খননের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।