আন্দোলনের সমাপ্তি, ক্লাস–পরীক্ষায় ফিরছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

আন্দোলনে বুয়েট শিক্ষার্থীরা- ফাইল ছবি

দাবি পূরণ হওয়ায় ক্লাস–পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা। সংবাদ সংম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রতিষ্ঠানটির ২০১৫ ব্যাচের ছাত্র মাহবুবুর রহমান সায়েম।

সায়েম বলেন, প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই আমাদের দেওয়া তিনটি পয়েট মেনে নেওয়ায় আমরা বুয়েট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের দেওয়া রায় মেনে নিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি টানছি। ২৮ ডিসেম্বর থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরব আমরা।

শেরেবাংলা হলে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হলে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন। শিক্ষার্থীরা এক পর্যায়ে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধই ছিল। প্রায় তিন মাস পর ২৮ ডিসেম্বর ফের চালু হচ্ছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম।

বুধবার শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুরু থেকেই আন্তরিক ভূমিকা রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদও জানান।

আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ছিল- মামলার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা, বুয়েটের আহসানউল্লা, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলে আগে ঘটে যাওয়া র‌্যাগিংয়ের ঘটনাগুলোয় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি এবং সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র‌্যাগিংয়ের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিভিত্তিক শাস্তির নীতিমালা প্রণয়নের পর একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন করে বুয়েটের অধ্যাদেশে সংযোজন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের দুটি দাবি প্রশাসন মেনে নিয়েছে। তৃতীয় দাবি অর্থাৎ র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় পুনরায় তদন্তের জন্য সময়ের প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে তারা গত ২৭ নভেম্বর পরীক্ষার তারিখের ব্যাপারে বুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, রেজিস্ট্রার, সব অনুষদের ডিনদের উপস্থিতিতে উপাচার্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়ে ২৯ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দেন। উপাচার্য ২৮ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরুর অনুরোধ করলে তারা তাতে সম্মত হন।

গত ২ ডিসেম্বর র‌্যাগিং ও সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তার শাস্তির নীতিমালা বিষয়ে বুয়েট প্রশাসন একটি নোটিশ প্রকাশ করে এবং বুধবার সকালে এ নোটিশ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানায়। শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের জানান, এখন থেকে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোড অব কনডাক্ট জানিয়ে অঙ্গীকার নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সুস্থ ও নিরাপদ বুয়েটের স্বার্থে বুয়েটের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনে এমন অঙ্গীকারনামা দিতে সম্মত আছে বলে শিক্ষকদের জানিয়ে আসেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যেই তিনটি দাবি মেনে নেওয়ায় বুয়েট প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের দেওয়া রায় মেনে নিয়ে তারা আন্দোলনের সমাপ্তি টানছেন। বুয়েট প্রশাসন আবরার ফাহাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সচেষ্ট হবে বলেও আশা করেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অন্যতম মুখপাত্র অন্তরা মাধুরীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এ ঘটনার পর থেকে বুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছে শিক্ষার্থীরা।

আবরার হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৪ নভেম্বর ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরতে প্রশাসনকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি পূরণের শর্ত দেয়। এসব দাবি মানতে ১৮ নভেম্বর শিক্ষার্থীদের কাছে সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহ সময় চান বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।