বেরোবিতে শিক্ষকদের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯      

বেরোবি প্রতিনিধি

ছবি: সমকাল

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন, তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত এবং 'বি' ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিতে রোববার ক্যাম্পাসে 'সচেতন শিক্ষকবৃন্দ'-এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।

'বি' ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এর কিছুক্ষণ পর ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ব্যানারে মানববন্ধন করে অন্য একটি গ্রুপ।

'সচেতন শিক্ষকবৃন্দ'-এর মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, 'আমরা বারবার প্রশ্ন তুলছি, এ তদন্ত কমিটি যৌক্তিক তদন্ত কমিটি নয়। এই তদন্ত কমিটি আমরা মানি না। যেহেতু উপাচার্যের সঙ্গে ওই ভর্তি পরীক্ষার্থীর একধরনের যোগাযোগ আছে আর উপাচার্য ওই অনুষদের ডিন এবং ভর্তি পরীক্ষায় সমন্বয়ক তিনিই নিযুক্ত করেছেন। তার মানে ওই সমন্বয়ক তার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।'

একই মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ড. তুহিন ওয়াদুদ তার বক্তব্যে বলেন, 'যে শিক্ষক এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে অবগত নন, শুধু যোগদান করেছেন, এরকম একজনকে কীভাবে এত বড় ঘটনার তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব করা যায়? আইন হচ্ছে নিচের পদের কোনো শিক্ষক উপরের কারও তদন্ত করতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় কেন এত অস্বচ্ছতা? এত অস্বচ্ছতা কখনও ছিল না। আমরা আশঙ্কা করছি এই ভর্তি পরীক্ষায় বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে।'

নীল দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদ মণ্ডলের সঞ্চালনায় 'সচেতন শিক্ষকবৃন্দ'-এর মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল কবীর সুমন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মতিউর রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কমলেশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, নীল দলের সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক আসাদ মণ্ডল, রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এইচ এম তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।\হএদিকে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অন্য একটি দল তাদের হুঁশিয়ার করে বলেন, কেউ যেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সেদিকে প্রশাসনকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ইমরানা বারীর ছোট বোন সামাজিক অনুষদভুক্ত 'বি' ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করলেও অন্য দুই ইউনিটে সর্বনিম্ন নম্বর পেয়ে ফেল করেন। ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার লিখিত আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষকরা। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ওই ছাত্রীর ভর্তি স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।