ঢাবির সমাবর্তনে তাকাকি কাজিতা

নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক নোবেলজয়ী অধ্যাপক তাকাকি কাজিতা-ফোকাস বাংলা

সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক নোবেলজয়ী অধ্যাপক তাকাকি কাজিতা-ফোকাস বাংলা

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী অধ্যাপক তাকাকি কাজিতা বলেছেন, জীবনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করতে হলে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আর নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে সোমবার সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এ পরিচালক এসব কথা বলেন। সমাবর্তনের অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, গ্র্যাজুয়েটরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক তাকাকি কাজিতা আরও বলেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল পেয়েছি। এ গবেষণা আমার একটি লক্ষ্য ছিল। মৌলিক ও রহস্যপূর্ণ কণা নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণা করি। এতে দেখা গেল, নিউট্রিনোর ভর আছে এবং এরা এদের রূপান্তরের পরিক্রমায় বিভিন্ন পরিচয়ে বিদ্যমান থাকতে পারে। এটি খুবই হালকা নিরপেক্ষ একটি কণা, যা পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার ফলে তৈরি। নিউট্রিনোর উৎপত্তিগতভাবে পরিবেশ দুটো ভিন্ন পরিচয়ে বিদ্যমান। এই উদ্ভাবনের ফলে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা বদলে যাবে। মূল কথা হলো, আমি এ লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়েছি এবং সাফল্যও পেয়েছি। কাজেই শিক্ষার্থীদেরও এভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তাহলে সাফল্য একবার না একবার আসবেই।

তিনি বলেন, আমাদের জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে, তবে দৈনন্দিন জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রতিনিয়তই এটি আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের কাজে লাগতে পারে। আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষক, গবেষক, স্কলার থেকে শুরু করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এবারের সমাবর্তনে ২০ হাজার ৭৯৬ গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ৭৯ কৃতী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ৯৮টি স্বর্ণপদক, ৫৭ জনকে পিএইচডি, ছয়জনকে ডিবিএ এবং ১৪ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়। অধিভুক্ত সাত কলেজের রেজিস্ট্রেশন করা গ্র্যাজুয়েটরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।