শিক্ষক সমিতির নির্বাচন

ইবিতে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তি

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯   

ইবি প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে দু'পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা। ১৫ জন শিক্ষকের প্যানেল ঘোষণায় উভয়পক্ষের প্রার্থীর সংখ্যা নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এই বিভক্তি হয়েছে বলে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন। দু'পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন প্যানেলে নির্বাচন করার কথা ভাবছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি। প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সাবেক ও বর্তমান সভাপতি-সম্পাদকের দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা।

শাপলা ফোরামের শিক্ষকদের সূত্রে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্যানেল নির্ধারণ করে ফোরামের কার্যনির্বাহী কমিটি। গত ৪ ডিসেম্বর কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় প্রাথমিক প্যানেল নির্ধারণও করা হয়। এতে ফোরামের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক রেজওয়ানুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানসহ পুরো কার্যনির্বাহী কমিটি সমিতির নির্বাচনে নিজ নিজ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার খসড়া তৈরি করে। তবে এই প্যানেল মেনে না নিয়ে সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়াসহ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন সভা ত্যাগ করেন। পরে গত রোববার সাধারণ সভা করেন ফোরামের শিক্ষকরা। সেখানে উভয় গ্রুপের শিক্ষকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হলে সভা মুলতবি করে বিকেল ৪টায় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়। এ সভায়ও সমঝোতায় আসতে পারেননি উভয় গ্রুপের শিক্ষকরা।

এদিকে প্রাথমিকভাবে উভয় গ্রুপের শিক্ষকরা আলাদা প্যানেল নির্ধারণ করে রেখেছেন বলে জানা গেছে। এখনও তা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ প্রকাশ করেনি। বিএনপি-জামায়াতের শিক্ষকদের সঙ্গে জিততে একটি প্যানেলে নির্বাচনের জন্য ফের সমঝোতার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, 'এটা দলের ভেতরের বিষয়। শাপলা ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ আমি জন্ম দিয়েছি। এখন লোক বেড়ে গেছে।' গ্রুপিংয়ের বিষয়ে ফোরামের বর্তমান সভাপতি-সম্পাদককে জিজ্ঞাসা করতে বলেন তিনি।

ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, 'ফোরামের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির কিছু শিক্ষক একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রশাসনিক পদে আছেন। এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। ফলে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এখনও আলোচনার সময় আছে।'

ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, 'সভাপতি হিসেবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সমঝোতায় আসার। একাধিক পদে থাকার অভিযোগগুলো খোঁড়া যুক্তি। ফোরামের পদ আমার আদর্শিক। আর প্রশাসনিক পদ অন্য বিষয়।'

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, 'প্রতিবছর শিক্ষক সমিতির নির্বাচন এলেই এরকম বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সমঝোতা করার।'