ভবন নির্মাণে ত্রুটির কথা স্বীকার করলেন খুবি উপাচার্য

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

খুবি প্রতিনিধি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান- সমকাল

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ভবন নির্মাণে ত্রুটির কথা স্বীকার করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি দেন ৪২ জন শিক্ষক। শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিতা হল, গেস্ট হাউস, লাইব্রেরি ভবনসহ নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন নির্মাণে ত্রুটির বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই তা নিরূপণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবনের পুরুত্ব কম হওয়ার প্রমাণ মেলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় একই ঠিকাদার দিয়ে ভবনটির রেটরোফিটিং করা হয়। এসব কাজের যাবতীয় ব্যয় সংশ্নিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে প্রশাসন। দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত দুটি কমিটি ও দুদকর তদন্ত চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের বিষয়ে অভিযোগে যে ২৩টি ত্রুটি বা সমস্যার কথা বলা হয়েছে, তা পূর্বনির্মিত ভবনের। ভবনটি ব্যবহারের পর স্বাভাবিকভাবেই এসব ত্রুটি ধরা পড়ে, যা একই ঠিকাদারকে দিয়ে ঠিক করা হয়। তবে নতুন নির্মিতব্য ভবনে এমন কোনো ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং পূর্বের বিল্ডিংয়ের ত্রুটিগুলোর সুপারিশ এখানে করা হয়েছে। ছাত্রীরা আবাসন সংকটসহ অন্য যেসব অভিযোগ করেছে, তা ভিত্তিহীন।

উপাচার্য জানান, যেহেতু ভবন দুটি নির্মাণকাজে অনিয়ম, ত্রুটি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুদক তদন্ত করছে, তাই তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পত্র পাঠানো হয়েছে। এতে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে বাধা আছে কিনা। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে রয়েছে। তবে দুদক এ ব্যাপারে উত্তর দেয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় করে কেউ পার পাবে না। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।