বিদেশ যেতে বীমা করতে হবে কর্মীদের

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

বিদেশগামী কর্মীদের জন্য জীবন বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বুধবার এ সংক্রান্ত চুক্তি সই করেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও জীবন বীমা কর্পোরেশন। চুক্তি অনুযায়ী, বীমার কিস্তির টাকার একাংশ সরকার দেবে। বাকিটা দেবেন কর্মীরা। দুই বছর মেয়াদী এ বীমা গ্রহণকারী কর্মী বিদেশে আহত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাবেন।

প্রবাসী কল্যাণ ভবনে অনুষ্ঠিত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বিদেশগামী বৈধ কর্মীরা দেশ ছাড়ার আগে ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি দেন। বিদেশে কোনো কর্মী মৃত্যু হলে এর বিপরীতে তাকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ সুবিধা বহাল রেখেই বীমা সুবিধা চালু করা হয়েছে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ৯৯০ টাকা কিস্তি দিয়ে দুই লাখ টাকা বীমা সুবিধা পাবেন কর্মীরা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৫০০ টাকা। বাকি ৪৯০ টাকা দেবেন কর্মী। দুই হাজার ৪৭৫ টাকা কিস্তি দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা বীমা সুবিধা পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রেও সরকার দেবে ৫০০ টাকা। বীমা না করলে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। অতীতে বৈধভাবে যারা বিদেশ গিয়েছেন, তারাও কিস্তি দিয়ে বীমা সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। দুই বছর অন্তর বীমা নবায়ন করতে হবে।

চোখ, হাত, পা হারালে বীমার পুরো টাকা পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা। তবে যুদ্ধ, দাঙ্গায় কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ সুবিধা পাবেন না। যুদ্ধ কবলিত মধ্যপ্রাচ্যে প্রায়ই বাংলাদেশি নিহত হন। তারপরও যুদ্ধে হতাহতদের বীমা সুবিধার বাইরে রাখার পক্ষে যুক্তি দিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শর্তের কারণেই তা করা হয়েছে।

ইমরান আহমদ বলেন, বীমার পরিসর আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কিস্তি আরো বাড়িয়ে বীমার ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়ানো হবে। তবে তিনি চান, কর্মীদের কাছ থেকেই এ দাবি আসুক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. সেলিম রেজা, জীবন বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. শেলীনা আফরোজ। চুক্তি নিজ নিজ পক্ষে সই করেন ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মো. জুলহাস এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুল হক।