বিজয় দিবসে যুদ্ধাপরাধীদের বর্জনের দাবি লাখো জনতার

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসেৌধে লাখো মানুষ-      ফোকাস বাংলা

বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসেৌধে লাখো মানুষ- ফোকাস বাংলা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে লাখো জনতা। সেই সঙ্গে সমাজের সর্বক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধীদের বর্জনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিন সূর্যোদয়ের পর থেকেই স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে, শ্রদ্ধা ভরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে জাতি। ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা বাতাস উপেক্ষা করে ফুল, পতাকা, আর বিজয়োল্লাসের বিভিন্ন ধরনের লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে ভিড় করতে থাকেন বিভিন্ন নানা বয়সী মানুষ। 

এরআগে প্রথম প্রহরে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। 

ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণের পর বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। তখন বিউগলে বাজানো হয় করুন সুর। 

সেনবাহিনীর একটি চৌকস দল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব আনার প্রদান করার পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে আবারও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী এবং সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপরই খুলে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধের মূল ফটক।

এ সময় বীর শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। 

এরপর একে একে কূটনৈতিকবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ, জাকের পার্টি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সংগঠন, রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ ও এর আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের বলয় তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। নজরদারি বাড়াতে পুরো এলাকায় অর্ধশত সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া তল্লাশি চৌকি স্থাপন ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।