নুরের বিরুদ্ধে করা মামলারও তদন্তের দায়িত্ব পাচ্ছে ডিবি

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে করা মামলারও তদন্তের দায়িত্ব পাচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শাহবাগ থানায় করা ওই মামলায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মামলাটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ভিপি নুরকে এখনই গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তবে তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেলে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করছে।

এদিকে নুরের করা মামলায় গ্রেফতার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের তিন নেতার রিমান্ড শুক্রবার শেষ হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে হাজির করবে তদন্ত সংস্থা ডিবি।

গত রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনে ভিপি নুর নিজের কক্ষে অনুসারীদের নিয়ে বৈঠক করার সময় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে নুরসহ অন্তত ৩৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই ঘটনায় শুরুর দিকে নুর মামলা না করায় পুলিশ বাদি হয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় সংগঠনটির তিন নেতা আল মামুন, কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান শান্ত ও ইয়াসির আরাফাত তূর্যকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে ওই ঘটনায় ভিপি নুর বাদি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ৩৭ জনের বিরদ্ধে অভিযোগ দেয়। সেটি আলাদা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হলেও আগের এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করছে ডিবি।

এদিকে একই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কর্মী ডিএম সাব্বির হোসেন ভিপি নুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলাতে হত্যাচেষ্টা ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান, নুরদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি এখনও থানা পুলিশ তদন্ত করছে। আজকালের মধ্যেই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পেতে পারে।

এদিকে শুক্রবার ভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের চিফ মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, ডাকসুর ঘটনায় হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলা দুটির তদন্ত আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম প্রতিপালন করা হচ্ছে। দণ্ডবিধিতে দায়ের ওই মামলার বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত চলছে। প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে। 

ভিপি নুরকে গ্রেফতার করা হবে কিনা জানতে চাইলে ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম সরাসরি কোনো জবাব দেননি। তিনি বলেন, মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা বা না করার এখতিয়ার ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার। তদন্তের অগ্রগতি হলে, তদন্তকারী কর্মকর্তার যদি মনে হয় ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে সেক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা স্বাধীন। তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।

ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ডাকসু ভবনের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলায় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এজাহারে অনেকের নাম আসামি হিসেবে থাকলেও তাদের গ্রেফতারে ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অকাট্য তথ্যপ্রমাণ মিলবে কেবল তাদেরই গ্রেফতার করা হবে। নুরের ওপর হামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুইজন এবং এজাহারের বাইরে একজনকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তেমনি নুর ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে যাদের নাম রয়েছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। রোববারের ঘটনার সময়ে কার কি ভূমিকা ছিল, তা যাচাই করা হচ্ছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুরের পক্ষের অনেকের হাতে লাঠি দেখা গেছে। ওই সময়ে তাদের তৎপরতার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সময়ে কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধ সংগঠনের প্রমান মিললে তাদের আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

ডাকসু ভিপি ও তার অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা ডিবির সহকারী কমিশনার শামসুল আরেফিন সমকালকে বলেন, তিন আসামির রিমান্ড শেষ হওয়ায় শনিবার তাদের আদালতে হাজির করা হবে। তাদের কাছ থেকে রোববারের ঘটনা সম্পর্কে কিছু তথ্য মিলেছে। তা যাচাই বাচাই করা হচ্ছে।