মাত্র আট মাসেই রাজশাহী-ঢাকা রুটের একমাত্র বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন 'বনলতা এক্সপ্রেস' হারিয়েছে এর অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল বগিগুলো। শুক্রবার এগুলো নীলফামারী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী 'নীলসাগর এক্সপ্রেস' ট্রেনের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক বগি দিয়ে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, এই বগি বদলের মাধ্যমে ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা এখন সম্ভব হবে। আগে তা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রাজশাহীর মানুষ।

রেলের ইতিহাসে সর্বাধুনিক এই বগিগুলোতে সংযুক্ত রয়েছে উড়োজাহাজের মতো বায়োটয়লেট। এ কারণে মলমূত্র রেললাইনের ওপরে পড়ত না। রয়েছে রিক্লেনার চেয়ার। আছে ওয়াই-ফাই সুবিধা। প্রতিটি বগিতে রয়েছে এলইডি ডিসপ্লে, যার মাধ্যমে স্টেশন ও ভ্রমণের তথ্য প্রদর্শন করা হয়। মোট ১২টি বগি দিয়ে গত ২৫ এপ্রিল বনলতা এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে।

এদিকে কয়েকদিন ধরেই বনলতার বগি সরিয়ে নেওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীর মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে গত ২২ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। বনলতা ট্রেনের বগি পরিবর্তন করা হবে না। এরপরেও বগি পরিবর্তন করা হলো।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে শেষবারের মতো ইন্দোনেশিয়ার র‌্যাক (ট্রেনের সব কোচ মিলে একটি র‌্যাক) নিয়ে যাত্রা করে বনলতা। এরপর ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকালে এ র‌্যাকটি চলে গেছে পার্বতীপুরে। শুক্রবার রাতে নীলসাগরের পুরোনো বগিগুলো আনা হয় রাজশাহীতে। শনিবার সকালে নীলসাগরের ওই পুরোনো বগিগুলো নিয়ে যাত্রা শুরু করে বনলতা।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, বনলতার ইন্দোনেশিয়ার বগিগুলো দিয়ে ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। কখনও ট্রেনটি লেট করলে প্রায় এক সপ্তাহ চলে যেত শিডিউল সময়ে ফিরিয়ে আনতে। এখন সিল্ক্কসিটি ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসের সঙ্গে বনলতার বগিগুলোর মিল থাকবে। কখনও লেট হলেও এই বগি দিয়ে যাত্রা করতে পারবে। এতে শিডিউল সময় ঠিক থাকবে। তাছাড়া বনলতার নতুন বগির র‌্যাকে কোনো কেবিন ছিল না। ভারতীয় র‌্যাকটিতে থাকছে দুটি এসি চেয়ার কোচ এবং দুটি এসি কেবিন। আসনও বাড়বে। এর ফলে রাজশাহীবাসী আরও ভালো পরিসেবা পাবেন।