৫ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২০। 'মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার'- এ স্লোগানকে উপজীব্য করে ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাহসিকতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারও পুলিশ পদক দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ১১৮ পুলিশ সদস্যের নাম চূড়ান্ত করে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। দু'একদিনের মধ্যে পদকপ্রাপ্তদের ব্যাপারে গেজেট প্রকাশ হবে। গত বছর রেকর্ডসংখ্যক ৩৪৯ পুলিশ সদস্যকে পদক দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে বিতর্কও হয়। এবার গত বছরের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ পদক প্রাপ্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এবার পুলিশ পদক কম দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়। সাহসিকতা ও কাজের চুলচেরা বিশ্নেষণ করে পদকের জন্য নাম নির্বাচন করা হয়েছে। যারা পদক পাবেন তাদের নিয়ে যেন বিতর্ক তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন বাছাই কমিটির সদস্যরা।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ বছর 'বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) সাহসিকতা' পাচ্ছেন ১৪ জন। তারা হলেন- কুমিল্লার মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. আক্তার হোসেন। তাকে মরণোত্তর ওই পদকে ভূষিত করা হবে। এ ছাড়া বিপিএম সাহসিকতা পাচ্ছেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, র‌্যাব-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী, ডিবির উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ, পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সিসিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক, সিসিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বোমা নিষ্ফ্ক্রিয়করণ দলের প্রধান মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী, সিসিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম, সিসিটিসির পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ, র‌্যাব সদর দপ্তরের সার্জেন্ট মো. শহীদুল ইসলাম, বগুড়ার শেরপুর থানার এএসআই মো. নান্নু মিয়া ও র‌্যাব-১-এর সৈনিক মো. রাকিব হোসেন। রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সাহসিকতা পাচ্ছেন ২০ জন। তারা হলেন- বগুড়ার পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত আরিফুর রহমান মন্ডল, র‌্যাব সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক মেজর এস এম সুদীপ্ত শাহীন, র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে কর্মরত মেজর শাহীন আজাদ, বরিশাল র‌্যাব-৮ এর মেজর খান সজিবুল ইসলাম, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ নেওয়াজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম, র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন, সিসিটিসির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আতিকুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রামের বোমা নিষ্ফ্ক্রিয়করণ ইউনিটের ইনচার্জ রাজেশ বড়ূয়া, রাউজান থানার ওসি মোহাম্মদ কেপায়েত উল্লাহ, পুলিশ সদর দপ্তরের এসআই সোহাগ মিয়া, শ্যামপুর থানার এসআই সোহাগ চৌধুরী, মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার এসআই আল মামুন, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার এসআই হারুন অর রশিদ, বগুড়া ডিবির এসআই জুলহাজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার এসআই রাজীব আহমেদ, শ্যামপুর থানার এএসআই মাসুম বিল্লাহ, সিটিটিসির এএসআই সোলাইমান হোসেন, আরএমপির এএসআই মাইনুল ইসলাম ও সিটিটিসির নায়েক মোহাম্মদ রাসেল মিয়া।

বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) সেবা পাচ্ছেন ২৮ জন। তারা হলেন- পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, র‌্যাব সদর দপ্তরের এয়ার উইংয়ের লে. কর্নেল মীর আসাদুল আলম, র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল মাহবুব আলম, নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি জামিল হাসান, এসবির পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম, পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি এ এফ এম আনজুমান কালাম, এআইজি তামান্না ইয়াসমীন, এআইজি নাসিরুল ইসলাম, এআইজি মিলন মাহমুদ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার জেরিন আখতার, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার জাহিদুর রহমান, পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ডিবির ডিসি রাজীব আল মাসুদ, পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মিশুক চাকমা, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা লিজা, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল হুদা আশরাফী, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম মিয়া, সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার অহিদুজ্জামান নূর, সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ, এসবির পুলিশ পরিদর্শক ইউনুস আলী শেখ, ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, সিটিটিসির এসআই আশুতোষ শীল, এসবির এএসআই মোহাম্মদ মোহন মিয়া ও সিটিটিসির কনস্টেবল সালমান হাজারী।

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা পাচ্ছেন ৫৬ জন। তারা হলেন- র‌্যাব-৬ এর লে. কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুস সালেহীন ইউসুফ, র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ, ১১ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শাহীনা আমিন, ডিএমপির পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক, ডেমরা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত গাজীপুর মেট্রোপলিটনের ডিবির মনজুর রহমান, র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের মেজর মনিরুল ইসলাম, মেজর মাহমুদ হাসান তারিক, পিবিআই যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়জুর রহমান, পিবিআই ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা, গোপালগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ফাহিম, হবিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল ইসলাম, র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাঈদ আহম্মেদ, খায়রুল হাসান, ডিএমপির সহকারী পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম সোহাগ, এএসএফ-এ কর্মরত এএসপি মিরাজুল ইসলাম, সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা, র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন, মো. কামরুজ্জামান, বাগেরহাটের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউর রহমান, এসবির পুলিশ পরিদর্শক কাওছার আহম্মেদ, সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ইব্রাহীম হোসেন, শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান, ডিএমপি সদর দপ্তরের আরওআই কাইয়ুম শেখ, গেন্ডারিয়া থানার ওসি সাজু মিঞা, কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এইচ এম আবদুর রহমান মুকুল, বরিশাল নৌ পুলিশের পরিদর্শক বেলাল হোসেন, এসবির এসআই মনিরুজ্জামান, সিএমপির ডবলমুরিং থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুরের তাজহাট থানার এসআই মামুনুর রশিদ, ডিবির এসআই বিলায়েত হোসেন, সিরাজগঞ্জ ডিবির এসআই ইয়াছিন আরাফাত, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্কের ইনচার্জ ইসমাতারা, বগুড়া ডিবির এসআই ওয়াদুদ আলী, বগুড়া ডিবির এসআই ফিরোজ সরকার, ময়মনসিংহ ডিবির এসআই আক্রাম হোসেন, ঝিনাইদহের এএসআই শরিফুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এএসআই আনোয়ার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এএসআই বিকাশ চন্দ্র সরকার, বগুড়া ডিবির এএসআই রানা হামিদ, ঢাকার নৌ পুলিশের কনস্টেবল জীবন সিকদার, খাগড়াছড়ি মহালছড়ির কনস্টেবল ফয়সাল আহমেদ প্রমুখ।

পুলিশের চাকরিতে পুলিশ পদক খুবই সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা হয়। পদক পাওয়া কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা ও নামের শেষে উপাধি হিসেবে এই পদক ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমান বিপিএম (সাহসিকতা) পদকধারীরা এককালীন ১ লাখ টাকা ও প্রতি মাসের বেতনের সঙ্গে দেড় হাজার টাকা বাড়তি পেয়ে থাকেন। পিপিএম পদকধারীরা এককালীন ৭৫ হাজার টাকা ও প্রতি মাসে এক হাজার টাকা পান। বিপিএম (সেবা) পদকধারীরা এককালীন ৭৫ হাজার টাকা পান। পিপিএম (সেবা) পদধারীরা এককালীন পান ৫০ হাজার টাকা।