ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বাংলাদেশে টেস্ট কম আক্রান্ত বেশি

বাংলাদেশে টেস্ট কম আক্রান্ত বেশি

জাহিদুর রহমান

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ১১:২২ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:২৮

পরীক্ষার পরিধি বাড়ানোর পর প্রথম শনাক্ত থেকে ৩৭তম দিনে দেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার নতুন করে ২০৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায় দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ১২ জন।

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর মঙ্গলবার ৩৭তম দিন যায়। আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম ১০০ জনে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৮ দিন। কিন্তু গত কয়েক দিনে এই চিত্রে পরিবর্তন আসে। রোববার ১৩৯, সোমবার ১৮২ এবং মঙ্গলবার ২০৯ জনের দেহে করোনার উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য জানায়  জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।

দেশে মঙ্গলবার পর্যন্ত টেস্ট করা হয় ১৩ হাজার ১২৮ জনকে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয় ১০১২ জনের। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯০৫ জনের পরীক্ষা হয়। করোনায় বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একদিনে মৃত্যু ও শনাক্তে মঙ্গলবারই সর্বোচ্চ। এই দিন মারা যান ৭ জন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সার্বক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছে ওয়ার্ল্ডওমিটার্স ডট ইনফো নামে একটি ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের হার ভাইরাসটিতে লণ্ডভণ্ড অনেক দেশের চেয়ে বেশি। যদিও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ওইসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক কম। 

ওয়ার্ল্ডওমিটার্স ডট ইনফোর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরাকে ৩৭ হাজার ৭৯১ টেস্টে আক্রান্ত ১৩৭৮, ইস্তোনিয়ায় ৩২ হাজার ২৬৩ টেস্টে আক্রান্ত ১৩৭৩, নিউজিল্যান্ডে ৬৪ হাজার ৩৯৯ টেস্টে আক্রান্ত ১৩৬৪, স্লোভেনিয়ায় ৩৫ হাজার ৯৪৬ টেস্টে আক্রান্ত ১২২০, কাজাখস্তানে ৭৬ হাজার ৯০৪ টেস্টে আক্রান্ত ১২০২, আজারভাইজানে ৬৬ হাজার ৬৭৭ টেস্টে আক্রান্ত ১১৪৮, উজবেকিস্তানে ৭০ হাজার টেস্ট আক্রান্ত ১১১৩, লিথুনিয়ায় ৪২ হাজার ৬৯০ টেস্টে আক্রান্ত ১০৭০ এবং হংকংয়ে ৯৬ হাজার ৭৯০ টেস্টে আক্রান্ত পাওয়া গেছে ১০১৩ জন। বাংলাদেশের মতো অবস্থায় আছে বসনিয়া ও আর্মেনিয়া। বসনিয়ায় ১১ হাজার ৬১২ টেস্টে আক্রান্ত ১০৮৩ এবং আর্মেনিয়ায় ৮ হাজার ৩১৬ টেস্টে আক্রান্ত পাওয়া গেছে ১০৬৭ জন।  

ওয়েবসাইটটি বলছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৬ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে, যাতে পজিটিভ আসে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৫ জনের। বিশ্বে সব থেকে বেশি করোনা আক্রান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রেই। সব চেয়ে বেশি করোনা পরীক্ষাও হয় ওই দেশে। পরীক্ষার দিক থেকে এরপর এগিয়ে জার্মানি, ইতালি ও রাশিয়া। এই তিন দেশে যথাক্রমে ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৭, ১০ লাখ ৭৩ হাজার ও ১৪ লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়। পরীক্ষায় জার্মানিতে ১ লাখ ৩১ হাজার, ইতালিতে ১ লাখ ৬২ হাজার ও রাশিয়ায় মাত্র ২১ হাজার মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে করোনা পরীক্ষার হার অনেক উপরে। এসব দেশের সব ক'টিতে কমপক্ষে সাড়ে তিন লাখ মানুষের করোনা পরীক্ষা হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬ হাজার টেস্ট সম্পন্ন করে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশের দুই গুণের বেশি আয়তন ভিয়েতনামের। তাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫৯ জন, বাংলাদেশের ১১০৬ জন। ভিয়েতনামে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে কেউ মারা যায়নি। তবে শনাক্ত হয়েছে ২১৬ জন। এর মধ্যে ১৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দেশটিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৮২১ জনের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে গত দু'দিনে পরীক্ষার পরিধি বাড়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিধি আরও বাড়লে  আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে পারে। পরীক্ষার মাধ্যমে যত বেশি আক্রান্ত শনাক্ত করা যাবে, তত বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তারা।

ওয়ার্ল্ডওমিটার্স ডট ইনফো'র তথ্য বলছে, বাংলাদেশে পরীক্ষার হার কম। এ কারণে সংক্রমণের হারও কম। কিন্তু মৃত্যুহার বেশি। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও শুরুতে দু-একজনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। অর্থাৎ প্রথমে দু-একজনের মাধ্যমে সংক্রমণ শুরু হয়ে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী হয়ে সর্বত্রই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। 

চীনের পর যেসব দেশে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে সেসব দেশে প্রথম সংক্রমণের পর ৩৮ থেকে ৭৬ দিনের মাথায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হতে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৭৬ দিনের মাথায় একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত পাওয়া যায় ৩২ হাজার ১০৫ জন। এছাড়া যুক্তরাজ্যে ৬৭তম দিনে, ফ্রান্সে ৬৬তম, জার্মানি ও স্পেনে ৬১তম, ইতালিতে ৫৩তম, ইরানে ৪২তম এবং নেদারল্যান্ডসে ৩৮তম দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ধরা পড়ে।

এসব তথ্যের আলোকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এপ্রিলের শেষ কিংবা মে মাসের প্রথম দিকে আক্রান্ত বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

×