ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তার দাবি

দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তার দাবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ১৩:৪০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম) ও নাগরিক উদ্যোগ।

বিডিইআরএম ও নাগরিক উদ্যোগ এর পক্ষে মনি রাণী দাস ও জাকির হোসেন এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ বিভিন্ন সেবামূলক কাজ এবং পেশা যেমন-পরিচ্ছন্নতাকর্ম, ক্ষৌরকর্ম, মৎস শিকার, মৃৎকর্ম, জুতা মেরামত, শূকর পালন ইত্যাদির সাথে জড়িত রয়েছে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৬৩ লাখ দলিত জনগোষ্ঠী রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ চা শ্রমিক রয়েছেন যারা সিলেট বিভাগের সবগুলো জেলা এবং উত্তরাঞ্চলের ২টি জেলার চা-বাগানগুলোতে কাজ করেন। উল্লেখ্য, এই জনগোষ্ঠীর শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষই বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীন চুক্তিভিত্তিক চাকরি অথবা ক্ষুদ্র ব্যবসা অথবা দিনমজুর হিসেবে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে জড়িত আছেন। এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশরই আপদকালীন সময়ের জন্য কোন প্রকার সঞ্চয় নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সংকটময় মুহুর্তে বাংলাদেশের দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কাজ না থাকায় তারা চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে দলিত জনগোষ্ঠীর যারা শহরাঞ্চলগুলোতে পরিচ্ছন্নতাকর্মের সাথে যুক্ত রয়েছেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সুরক্ষা উপকরণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়াও ৭/৮ সদস্যের পরিবার নিয়ে একটি কক্ষে থাকার কারণে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য প্রদত্ত খাদ্য সহায়তা দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর নিকট খুব স্বল্প আকারে পৌঁছানোর কারণে তাদের জীবনধারণ হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া প্রায়োজনীয় স্বাস্থ্য সচেতনতা অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক সামগ্রীর অপ্রতুলতার কারণে তাদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে দাবি হলো:

১. কর্মহীন হয়ে পড়া দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর নিকট জরুরিভিত্তিতে অন্ততঃ এক মাসের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ।

২. শহরাঞ্চলের জরুরি পরিচ্ছন্নতাকর্মে নিয়োজিতদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িত এই জনগোষ্ঠীর মানুষদের সংকট কেটে যাবার পর এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যাতে করে তারা তাদের ব্যবসাকে পুনরায় কার্যকরভাবে চালু করতে পারে।

৪. দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যাদের কোন নিয়মিত চাকরি নেই। তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে এবং এজন্য এখনই একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

আরও পড়ুন

×