ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

করোনা দূরে ঠেলতে পুুলিশের ‘আপৎকালীন তাবু’

করোনা দূরে ঠেলতে পুুলিশের ‘আপৎকালীন তাবু’

শেরপুরের সব থানা ও পুলিশ লাইন্সে বসানো হয়েছে তাবু - সমকাল

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ২৩:২১ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৭:৩৪

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ বাহিনী। বিশেষ করে থানা, ব্যারাক বা পুলিশ লাইন্সে থাকা সদস্যরা যাতে ভাইরাসে আক্রান্ত না হন সে লক্ষ্যে ফোর্স ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়েছে নতুন পদক্ষেপ।

এরই অংশ হিসেবে দেশের অনেক থানা এবং ব্যারাকের ভেতরে এরই মধ্যে বড় বড় তাবু টানানো হয়েছে। দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো পুলিশ সদস্য থানা ও ব্যারাকের বাইরে বের হওয়ার সময় আগে ওই তাবুতে যাবেন। সিভিল ড্রেস বদলে তাবুর ভেতরে পরতে হবে ডিউটি পোশাক।

এরপর দায়িত্ব পালন শেষে যখন আবার ব্যারাক বা থানায় ফিরবেন তখনও সবার আগে ঢুকতে হবে তাবুর ভেতরে। বাইরে ব্যবহার করে আসা পোশাক বদলে তাবু থেকে সরাসরি চলে যেতে হবে গোসলের জায়গায়। যে পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করা হয়েছে তা ধোয়ার আগে নিজ কক্ষে নেওয়া যাবে না।

প্রতিটি সদস্য গোসল শেষে এরপর যেতে পারবেন থানা বা ব্যারাকে নিজ নিজ বসবাসের জায়গায়। এক সঙ্গে যাতে পুলিশের অনেক সদস্যের মধ্যে করোনার ভাইরাস সংক্রমিত না হয় সেই লক্ষ্যে এমন আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

এরই মধ্যে দেশের অনেক থানায় তাবু সরবরাহ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিুবুর রহমান সমকালকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছে। যেসব এলাকায় করোনা রোগী রয়েছে সেখানে সরেজমিনে গিয়ে লকডাউন করছেন তারা। করোনা আক্রান্ত মৃতদেহের দাফনে ভূমিকা রাখছে। কাজের সূত্র ধরেই প্রতিদিন পুলিশকে অনেকের মুখোমুখি হতে হয়। তাই পুলিশ সদস্যদের করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করা হচ্ছে। বদলে দেওয়া হয়েছে চিরায়ত দায়িত্ব পালনের অনেক নিয়মাবলী।

তিনি বলেন,  থানা ও ব্যারাকে এরই মধ্যে তাবুও বসানো হয়েছে। অনেক পুষ্টিকর ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার পুলিশের খাবার মেন্যুতে নতুনভাবে সংযোজনও করা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশকে প্রস্তুত করে তোলা হচ্ছে।

একাধিক জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার তথ্য জানতে সব থানায় রাখা হয়েছে নিজস্ব স্বাস্থ্য চার্ট। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের নামে পাশে বেশ কয়েকটি রোগের উপসর্গ লিখে তৈরি করা হয় এই চার্ট। সকল পুলিশ সদস্য উপসর্গের পাশে ‘হ্যা’ বা ‘না’ সূচক টিক দেবেন। করোনার উপসর্গে কোনো সদস্য টিক দিলে তাকে দ্রুত অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের গায়ের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিনে দেওয়া হয়েছে ইনফ্রারেড থার্মোমিটার।

পুলিশের অপর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আপৎকালীন সময়ে ফোর্স সুস্থ থেকে জনসেবা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আগামীতে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে পুরুষ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি নারী পুলিশ সদস্যরা যাতে মানবসেবায় নিয়োজিত হতে পারেন সেই লক্ষ্যে তাদেরও মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলা হচ্ছে।

  • সব সদস্যের স্বাস্থ্য চার্ট ও মেন্যুতে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার
  • দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গাড়িতে পাবে গরম পানি ও চা
  • এক জেলায় কেনা হলো লাখ টাকার ভিটামিন-সি

সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে থানার ভেতরে ও বাইরে অন্যান্য দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বাইরে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের গাড়িতে ফ্ল্যাক্স কিনে দেওয়া হয়েছে। সেখানে গরম পানি ও চায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনকালে তারা কিছু সময় পরপর গাড়িতে বসেই চা ও গরম পানি খেতে পারেন। এছাড়া দৈনন্দিন খাবার তালিকায় শাক ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধি খাবার রাখা হচ্ছে।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পুলিশের অধিকাংশ সস্য অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বসবাস করেন। তাই তাদের মধ্যে কারও একজনের করোনা সংক্রমণ হলে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। এরই মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের একাধিক সদস্য করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফোর্সদের সুস্থ রাখা জরুরি। কারণ কোনো ব্যারাক বা থানার একজন আক্রান্ত হলেও পুরো ফোর্সকে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হচ্ছে।

শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম সমকালকে বলেন, ফোর্সদের নিরাপদ রাখতে রোটেশন করে দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। যারা বাইরে দায়িত্ব পালন করছে তাদের জন্য পৃথক টয়লেট ও গোসলের জায়গার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুজ্জামান দোলা বলেন, ফোর্সদের মধ্যে সরবরাহের জন্য এক লাখ টাকার ভিটামিন সি কেনা হয়েছে। জেলার সব পুলিশ সদস্যের মাঝে এক মাসের জন্য তা বিতরণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×