ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ ১০ জেলা

কোথাও স্যালাইন সংকট, কোথাও প্রস্তুতির ঘাটতি

কোথাও স্যালাইন সংকট, কোথাও প্রস্তুতির ঘাটতি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০১:৩৮

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। তবে বেশি আক্রান্ত দেশের ১০ জেলার মানুষ। জেলাগুলো ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব এলাকায় রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিলেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলাগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্তে চিকিৎসায় তেমন প্রস্তুতি নেই। কোথাও কোথাও এরই মধ্যে স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে, আবার কোথাও করাই হয়নি ডেঙ্গু কর্নার। এডিস মশা নিধনে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। একাধিক জেলায় গ্রামে বেশি আক্রান্ত হলেও উপজেলা হাসপাতালে কোনো প্রস্তুতি নেই।

জেলা ১০টি হলো– ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা করাতে হবে। এ জন্য ডেঙ্গু ওয়ার্ড বা মশারির ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই, সেখানে চিকিৎসক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সংকট রয়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে দ্রুত অ্যান্টিজেন কিট পাঠিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকে চিকিৎসক আনতে হবে।’ ডেঙ্গুর গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী কেন বাড়ল– এ বিষয়ে আমাদের তেমন ধারণা নেই। এ জন্য বড় গবেষণা প্রয়োজন। দৃশ্যত, জেলা-উপজেলায় মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিত জটিল হয়েছে।’ এ জন্য মশা নিধন ও রোগী ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও সরবরাহ করা হচ্ছে। স্যালাইন বা কিট জরুরি প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় ঘাটতির কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১০ জেলায় এডিস মশা নিধনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকায় আক্রান্ত কমছে

দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ কমছে। মুগদা হাসপাতালে সপ্তাহ দুয়েক আগে ৫০০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৩৩০ জন। একই অবস্থা ঢাকা মেডিকেলে। সেখানে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৪২ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন, যদিও দুই সপ্তাহে ছিলেন ৪৫০ জন। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির তুলনায় সুস্থতার হার বেশি। এতে হাসপাতালে চাপ কিছুটা কমেছে, বিশেষ করে ডিএনসিসি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত ১ হাজার ৩০০ শয্যার মধ্যে বর্তমানে ৭০০ শয্যা ফাঁকা।
 

বরিশালে স্যালাইনের সংকট

শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল হচ্ছে বরিশাল বিভাগের প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। জেলা-উপজেলার হাসপাতাল থেকে রোগী পাঠানো হয় এখানে। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগীও রয়েছে। এসব রোগীকে হাসপাতাল থেকে প্যারাসিটামল সরবরাহ করা হলেও সংকট দেখা দিয়েছে স্যালাইনের (পুশ)।
বাকেরগঞ্জের চরাদি গ্রামের হিরু বেগমের ভাই রুহুল আমিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। শেবাচিমে ভর্তি তিনি। মঙ্গলবার সকালে ৯টি দোকান ঘুরে ভাইয়ের জন্য স্যালাইন পাননি হিরু বেগম। পরে এক নার্সকে অনেক অনুরোধ করে ৫০০ মিলিমিটারের একটি স্যালাইন নিয়েছেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্যালাইনের একটু ঘাটতি আছে। হাসপাতাল থেকে সাধ্য অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বিভাগে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। তার মধ্যে ২৭ জনই মারা গেছেন শেবাচিম হাসপাতালে।

চট্টগ্রামে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামে ১০৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি মাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৯২১। আক্রান্ত বাড়তে থাকায় হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। চট্টগ্রামে চলতি বছর এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৯৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে শিশুসহ ৫৩ জনের।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অষ্টম তলায় আলাদা ইউনিটে চলছে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা। হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু বিভাগেও রয়েছে ডেঙ্গু রোগী। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কিট রাখা হয়েছে। তা ছাড়া স্যালাইনও মজুত রয়েছে। তাই ডেঙ্গু চিকিৎসায় আপাতত কোনো সংকট নেই।’ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সব ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়েছে।
 

কুমিল্লায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে চলতি বছর কুমিল্লায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯৮ জন। তবে কারও মৃত্যু হয়নি। ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য কুমিল্লা মেডিকেলে আলাদা করা হয়েছে ৯০টি শয্যা। মজুত রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন। জেলার অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. নাছিমা আকতার বলেন, জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এখন ১৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘আক্রান্ত ৯৫ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কাউকে ঢাকায় রেফার্ড করতে হয়নি। ডেঙ্গুর ওষুধ, দেড় হাজার স্যালাইন ও ৩০০ মশারি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামছুল আলম বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে গঠন করা হয়েছে কমিটি।’

ফরিদপুরে ৭০ শতাংশই আক্রান্ত আগস্টে

গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার জনের বেশি। এর ৭০ শতাংশই আক্রান্ত হন চলতি আগস্টে। কিন্তু জেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া কোথাও খোলা হয়নি ডেঙ্গু ওয়ার্ড।
জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এখন ৩৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে; ১৪৪ জন। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লিফলেট বিতরণ ও মশা নিধন অভিযান চলছে। দ্রুতই আক্রান্ত কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় মশা নিধনে নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ফরিদপুরে পৌর মেয়র অমিতাভ বোস।

লক্ষ্মীপুরে প্রতিদিন ভর্তি ৩০-৪০ জন

লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। বেড না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। বর্তমান জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি। জেলা সিভিল সার্জন আহাম্মদ কবীর বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেক খারাপ। হাসপাতালে আলাদা কর্নার করেছি। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণাও চলছে।’ জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন বলে জানান তিনি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ ঝুঁকিতে পড়লে জেলায় মশা নিধনে তেমন কার্যক্রম নেই।

ময়মনসিংহে স্থানীয় আক্রান্ত কম

ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত কমছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যারা ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অধিকাংশই ঢাকা বা গাজীপুর থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. নজরুল ইসলাম এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আক্রান্ত খুবই কম। তারপরও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’ সিটি মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে যেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে জরিমানা করা হচ্ছে। মশা মারতে স্প্রে করা হচ্ছে।’

পটুয়াখালীতে রোগী বেশি গ্রামে

পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। জেলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯০১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ১৪৭ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দুমকী উপজেলায়; ৩৪৩ জন। ডেঙ্গুর ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ জেলার তালিকায় পড়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মশা নিধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান জানান, শহরের চেয়ে গ্রামে ডেঙ্গু রোগী বেশি। এ কারণে গ্রামে নজর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে কমিটি করে তাদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তৎপরতা নেই

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তেমন তৎপরতা নেই পিরোজপুরে। মাঝেমধ্যে শহরের কিছু এলাকায় মশক নিধনের ওষুধ দিলেও পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকা থাকছে কার্যক্রমের বাইরে। সিভিল সার্জন জেলায় পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন ও প্যারাসিটামল থাকার কথা জানালেও হাসপাতালে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বেশির ভাগ রোগী জানান, তাদের বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে। জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার করা হলেও উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী রাখা হচ্ছে অন্য রোগীর সঙ্গে।
এ বছর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২০ জন ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন।

চাঁদপুরে রোগী বেশি মতলব দক্ষিণ ও কচুয়ায়

জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এর মধ্যে ১ হাজার ৩২২ জন আক্রান্ত হন চলতি মাসে। আক্রান্তের বেশির ভাগ শিশু। চাঁদপুরে ডেঙ্গু বেড়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয়রা দুষছেন জনপ্রতিনিধিদের। পৌর এলাকার বাসিন্দারা বলছেন,  নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হলে ডেঙ্গু এমন ভয়াবহ রূপ নিত না।
জেলায় ডেঙ্গু রোগী বেশি মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলায়। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর জন্য আলাদা কার্নার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসকও রয়েছেন। 
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে ডেঙ্গু রোগী কমছে। তবে তা আবার বাড়তে পারে।’

[প্রতিবেদনে তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি)

আরও পড়ুন

×