ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

ভোগান্তির শেষ কোথায় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনে

ভোগান্তির শেষ কোথায় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনে

লতিফুল ইসলাম

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

 ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণে চলতি সপ্তাহ থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে চালু হয়েছে নিবন্ধন প্রক্রিয়া। কিন্তু সহজীকরণের এ উদ্যোগ কোনোভাবেই যেন সহজ হচ্ছে না। জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড এ নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে। পুরোনো ৩৩টি ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন চালু করলেও এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক অফিস থেকে সব কাউন্সিলর এবং সদস্য সচিবের সার্ভারে আইডি ও পাসওয়ার্ড হস্তান্তর করা যায়নি। ফলে কাউন্সিলরদের কাছে পাসওয়ার্ড হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন বন্ধ থাকছে ডিএনসিসির ৩৩ ওয়ার্ডে। এ ছাড়া আরও তিনটি পুরোনো ওয়ার্ডে সদস্য সচিব না থাকায় এ কার্যক্রম চালু হয়নি।

 অন্যদিকে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ফি কে পাবে, তা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সঙ্গে রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের দ্বন্দ্বে রাজধানীর এ অংশে নিবন্ধন বন্ধ প্রায় পাঁচ মাস ধরে। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ডিএসসিসি এলাকার হাজারো মানুষ।

বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, চাকরিতে যোগদান, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নাগরিক সেবার ১৯টি ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় জন্মসনদের। কিন্তু খোদ রাজধানীতে জন্মনিবন্ধনে যেন ভোগান্তির শেষ নেই। মাসের পর মাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সার্ভার দুর্বল, দালালের দৌরাত্ম্য, জনশক্তির সংকট এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ দুই সিটি করপোরেশনের। এমন অবস্থায় চলতি বছর ডিএনসিসি জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে এ কার্যক্রম আঞ্চলিক অফিসের পরিবর্তে ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিবন্ধক ও সদস্য সচিব সহকারী নিবন্ধকের দায়িত্বে থাকবেন। ৪ সেপ্টেম্বর ৩৩ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সচিবদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তাদের কাছে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের সার্ভার হস্তান্তর শুরু হয় এবং গত রোববার থেকে এসব ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন চালু করে করপোরেশন।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে ১৮টি নতুন ওয়ার্ড সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব ওয়ার্ডে সদস্য সচিবের পদ সৃজন করা হয়নি। নেই ওয়ার্ড অফিস ও সরঞ্জাম। ফলে ডিএনসিসির এসব ওয়ার্ডে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চালু হচ্ছে না। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন করতে এসব ওয়ার্ডের নাগরিকদের যেতে হবে আঞ্চলিক অফিসে। আর করপোরেশনের ১, ১৫ এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন সদস্য সচিব না থাকায় এ কার্যক্রম দেরিতে চালু হচ্ছে।

এদিকে গত ১৭ এপ্রিল রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ফি পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানায় ডিএসসিসি। এর পর থেকে ডিএসসিসি এলাকায় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ আছে। এ বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক, চিঠি চালাচালি হলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৩টি ওয়ার্ডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি পুরোনো ওয়ার্ডে এ কাযক্রম চালু হবে। কিন্তু পাসওয়ার্ড হস্তান্তরের চেয়ে বড় সমস্যা জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের সার্ভারে জটিলতা। এটি প্রায় সময় বন্ধ থাকে। রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে এ বিষয়ে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি।’

একই বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইনের নির্দেশিকা অনুযায়ী এই দপ্তর থেকে যেসব সেবা দেওয়া হবে, সে জন্য যে ফি নেওয়া হবে তা স্থানীয় সরকারের নিজস্ব আয় হওয়ার কথা। কিন্তু জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ব্যয় করলেও আয় চলে যাচ্ছে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। সার্টিফিকেট প্রিন্ট, জনবল ও যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনায় আমাদের যে টাকা খরচ হচ্ছে, তা যেন আমরা পাই সে বিষয়ে মেয়র স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) রাশেদুল হাসানের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন

×