ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

‘আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে’

চবি সাংবাদিককে মারধর

‘আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে হামলায় আহত মোশাররফকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৮:৩২ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৪:৫০

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) কর্মরত এক সাংবাদিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মরধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার সাংবাদিক মোশাররফ শাহ দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। 

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে তাকে মারধর করা হয়। মারধরকারীরা চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও বগিভিত্তিক গ্রুপ চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ারের (সিএফসি) অনুসারী।

সাংবাদিক মোশাররফ শাহ বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমি উপাচার্যের কার্যালয়ে যাচ্ছিলাম ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও প্রধান প্রকৌশলীকে মারধরের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য। এ সময় দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের সামনে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী আমাকে প্রথমে পেছন থেকে ধাক্কা দেন। এরপর ছাত্রলীগ নিয়ে কোনো প্রতিবেদন তৈরি করেছি তা জানতে চায়। কয়েকজন আমার কপালে, মুখে কিলঘুষি দেন। বুকে লাথি দেন। হাতেও আঘাত করেন।’

মোশাররফ জানান, মারধরের সময় নেতাকর্মীরা তাকে পরবর্তীতে আর ছাত্রলীগ নিয়ে প্রতিবেদন না ছাপানোর হুমকি দেন। তারা বলেন, ‘আর নিউজ করিস, তারপর দেখব তোরে কে বাঁচাতে আসে। ছাত্রলীগকে নিয়ে কোনো নিউজ হবে না।’

আহত অবস্থায় মোশাররফকে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বুক ও হাতে আঘাত থাকার কারণে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব বলেন, ‘তার কপালে চার সেলাই দিতে হয়েছে। তার হাতেও আঘাত আছে। এক্সরে করাতে হবে। উন্নত চিকিৎসা জন্য তাকে চমেকে পাঠানো হয়েছে।’

ছাত্রলীগের উপগ্রুপ সিএফসির নেতৃত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রেজাউল হক রুবেল। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’

চবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহবুব এ রহমান বলেন, ‘এর আগেও বারবার সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলশ্রুতিতেই আবারও এমন ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী ও দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন

×