আমাদের আছে দিগন্তজোড়া শস্যভূমি। তাতে পলল মৃত্তিকার ছোঁয়ায় ফলে বিচিত্র শস্য। শীতের এই শস্যভূমি শুধু মনের নয়, চোখের খোরাকও জোগায়। আছে ডাল, কাউন, পেঁয়াজ, রসুন, গম, ভুট্টা, গাজর, কপি, আলু, শিম- আরও কত কী! আর আছে দিগন্তজোড়া সরষে ক্ষেত। যেখানে হলুদ-সোনা রং গালিচার মতো। দিনের উজ্জ্বলতা শেষে যে রং মিশে যেতে থাকে বিকেলের মায়াবী আলোয়। আবার শীতের বিকেলটাও বড্ড সংক্ষিপ্ত। দুপুর গড়িয়ে কখন যে চট জলদি বিকেল নামে, বোঝা যায় না! একঘেয়ে, নিস্তরঙ্গ মুহূর্ত শুধুই শূন্যতায় মোড়ানো আর মন-খারাপ করা। তারপর অন্ধকার গাঢ় হওয়ার আগেই কুয়াশার হালকা আবরণে ঢেকে যায় চারপাশ। দূরে সুপারির বনে যখন সূর্য হেলে পড়ে, তখন গৃহস্থের রসুইঘরের ধোঁয়া আর কুয়াশা মিলে এক মায়াবী মেখলা পরিয়ে দেয় গোটা গ্রামকে। ধীরে ধীরে অন্ধকার গাঢ় হলে গ্রামগুলো এক রহস্যময় আবরণের ভেতর ডুবে যেতে থাকে।

গ্রামের মতো কি শহরে এভাবে শীত উদ্‌যাপনের সুযোগ আছে? এর উত্তর আমাদের সবার জানা। আর তাই শহরে শীতের প্রকৃতিকে উপভোগ্য করতেই শীতবাগানের সূচনা। শীতের বিবর্ণ প্রকৃতির বিপরীতে মৌসুমি ফুলের বাগানগুলো বেশ আলো ঝলমলে। বিচিত্র রংয়ের ফুলে ফুলে ভরে ওঠে চারপাশের বাগান। দেশে শীতের এসব ফুলের অধিকাংশই এসেছে শীতের দেশ থেকে। তবুও কয়েক জাতের ফুল আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে মিশে গেছে দারুণভাবে। রংবেরংয়ের এসব ফুলের মধ্যে আছে ভার্বেনা, ডায়ানথাস, ডালিয়া, ক্যালেন্ডুলা, পপি, গাঁদা, কসমস, অ্যাস্টার, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি। বর্ণবৈচিত্র্যের কারণে অ্যাস্টার সারা পৃথিবীতেই জনপ্রিয় ফুল। এদের অনেক রং- নীল, রক্তলাল, সাদা, গাঢ় লাল, হলুদ ও বাসন্তী। তবে নীল অ্যাস্টার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন। ডালিয়া মৌসুমি ফুলের মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া। এই ফুলের বিচিত্র গড়ন আর রংয়ের শেষ নেই। পাপড়ি সংখ্যাও অনেক। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ সেমি পর্যন্ত চওড়া হতে পারে।

চন্দ্রমল্লিকার জন্মস্থান চীন, আর সমাদর জাপানে। কারণ চন্দ্রমল্লিকা জাপানের জাতীয় ফুল। গোলাপের মতোই কয়েক হাজার রকমফের চোখে পড়ে। বোতামের আকৃতি থেকে শুরু করে ১০ সেমি পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। পাপড়িও তেমনি হরেক রকম। কিনারেরগুলো লম্বা, উঁচানো, মোড়ানো, ছড়ানো, সরু বা চ্যাপ্টা। আমাদের দেশে বিক্ষিপ্তভাবে শার্লি পপির চাষ হয়। ফুল ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া, আয়তাকার, দেখতে অনেকটা বড় পেয়ালার মতো। অনেক রংয়ের পপি শীতের বাগান মাতিয়ে রাখে। কমলা বা হলুদ রংয়ের ক্যালেন্ডুলা দেখতে বেশ নজরকাড়া। শীতের বাগানে লাল টুকটুকে রং ছড়ায় সালভিয়া। আবার লুপিন-এর নীলাভ স্নিগ্ধতা শীতের বাগানকে মাতিয়ে রাখে সারাক্ষণ। শীতের বাগানে আরও আছে স্ট্র-ফ্লাওয়ার, কর্নফ্লাওয়ার, হলিহক, জার্বেরা, পিটুনিয়া, ভার্বেনা, ফ্লক্স, কসমস, জিনিয়া ইত্যাদি।